জলবায়ু পরিবর্তনের দায় মেনে নিয়েছে উন্নত দেশগুলো

90

যুগবার্তা ডেস্কঃ তিন দফা সময় পরিবর্তন করে বুধবার সন্ধ্যায় প্যারিস কমিটি প্যারিস চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। যাকে ‘প্যারিস আউটকাম’ হিসাবে অভিহিত করা হচ্ছে। এ খসড়া বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ ও স্বল্পোন্নত দেশগুলো উপকৃত হবে।
বুধবার এ খসড়া প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে খবর ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়া রুমগুলোর প্রিন্টারগুলোতে সাড়া পড়ে যায় চুক্তিটির প্রিন্টেড কপি সংগ্রহের জন্য। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যরাও চুক্তির খসড়া কপি সংগ্রহ করে বাংলাদেশ স্টলে বসে পড়েন চুক্তির চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য।
২৮ পৃষ্ঠা চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্প যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি ১.৫ ডিগ্রি বা ১.৫ ডিগ্রির নীচে রাখার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে চুক্তিতে।
অর্থায়নের ক্ষেত্রে চুক্তিতে তিনটি পন্থার কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো- ১. সকল দেশকে জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় অর্থ দিতে হবে। ২. উন্নত দেশগুলো এবং ওইসিডিভূক্ত দেশগুলো জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমে অর্থায়ন করবে। এবং ৩. সকল দেশমিলে প্রভাব মোকাবেলায় অর্থায়ন করবে। তবে জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলার সব অর্থই আসবে গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষয় ও ক্ষতির দায় দায়িত্ব উন্নত দেশগুলো মেনে নিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদানের কথা চুক্তিতে বলা হয়েছে। তবে এ নিয়ে উন্নত দেশগুলোর আপত্তি রয়েছে। তবে বা¯‘চ্যুতদের কথা স্পষ্টভাবে এসেছে। শুধু তাই নয়, বাস্তচ্যুতদের পুনর্বাসন ও মাইগ্রেশনের কথাও বলা হয়েছে এতে। এজন্য ডিসপ্লেসমেন্ট কো-অর্ডিনেশন ফ্যাসিলিটি নামে আলাদা একটি সংস্থা গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই ফ্যাসিলিটি ওয়ারশো ম্যাকানিজম অনুযায়ী কাজ করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছর পর জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয় ও ক্ষতির বিষয়ে রাজি হয়েছে। এটি প্যারিস চুক্তির একটি বিশেষ দিক। বাস্তুচ্যুদের ব্যাপারে কো-অর্ডিনেশন শব্দ নিয়ে উন্নত দেশগুলোর আপত্তি আছে। সেক্ষেত্রে এই শব্দটি শেষ পর্যন্ত বাদ যেতে পারে। তবে এটি বাদ গেলেও কোন ক্ষতি হবে না বলে মনে করছেন তারা।
এছাড়া চুক্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে অগ্রাধিকার প্রদানের কথা বলা হয়েছে। তবে এই অগ্রাধিকারের তালিকায় স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সঙ্গে আফ্রিকান ও ক্ষুদ্র দ্বীপ দেশগুলোকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টি খসড়া চুক্তিতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। যা অনুমোদন হলে বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ ও স্বল্পোন্নত দেশগুলো উপকৃত হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য ড. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তিতে আনার জন্য কিছু শব্দগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষভাবে আইনগত বাধ্যবাধকতার কথা বলা না হলেও পরোক্ষভাবে তা এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে নেগোসিয়েশনের জন্য এটি একটি গ্রহণযোগ্য খসড়া। এখন এটিকে নিয়ে আমাদের ফাইট করতে হবে নেগোসিয়েশনে যাতে আমাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে বহাল থাকে।’
এ প্রসঙ্গে অপর সদস্য ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘এই খসড়া চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ফোরাম এলডিসি গ্রুপকে সক্রিয় রাখতে হবে। পাশাপাশি জি ৭৭ গ্রুপ ও চীন যাতে চুক্তি নিয়ে কোন সমস্যা তৈরি না করে সে ব্যাপারেও সচেষ্ট থাকতে হবে।’
অবশ্য খসড়া প্রকাশের পর পরই চুক্তিটি নিয়ে বিশ্লেষণে বসে এলডিসি গ্রুপ। এই গ্রুপে সরাসরি এসে যোগ দেন টুভালোর প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ‘লস এন্ড ডেমেজ’ ইস্যুর ব্যাপারে তিনি সোচ্চার থাকবেন বলে বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেইঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি কাওসার রহমান এ বিষয়ে বলেন, আগের খসড়াগুলোর চেয়ে সর্ব শেষ খসড়াটি গ্রহণযোগ্য এবং এটি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনার জন্য সুন্দর ভিত্তি। খসড়ায় বাংলাদেশসহ জলবায়ূও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রতিটি ইস্যুই প্রতিফলিত হয়েছে। তবে অনেক ইস্যুর ব্যাপারে উন্নত দেশগুলোর আপত্তি ও দ্বিমত রয়েছে। বাংলাদেশের উচিত হবে এই ইস্যুগুলোকে শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে রাখার জন্য জোরাল ভূমিকা পালন করা। আমাদের সময়.কম