জবি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে পারেন যারা

যুগবার্তা ডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার বছর পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে গুঞ্জন, কারা আসছেন জবি ছাত্রলীগের আগামীর কান্ডারি হয়ে?

জানা যায়, সদ্যসাবেক শরীফ-সিরাজ কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় একাধিক অরাজকতার অভিযোগ থাকায় কেন্দ্রীয় নেতারা চাইছেন ক্লিন ইমেজধারী কেউ আসুক জবি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এগিয়ে থাকা পদপ্রার্থীদের অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে সাংবাদিক পেটানো, মাদক গ্রহণ, অস্ত্র মামলার আসামি, জেলখাটা, ভুয়া পদধারী কেন্দ্র্রীয় ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কৃত হওয়াসহ একাধিক অভিযোগ।

সূত্র জানায়, ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমানের দুসময়ের বন্ধু বলে পরিচিত জবি ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান জুয়েলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বয়স অতিক্রম করার অভিযোগ রয়েছে। তবে তার প্লাস পয়েন্ট হিসেবে দাঁড়াতে পারে জবি ছাত্রলীগের প্রতি তার আন্তরিকতা এবং কঠিন সময়ে ক্যাম্পাসে সময় দেয়া।

এছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক প্রভাবশালী সভাপতি লিয়াকত শিকদারে শ্যালক বলে পরিচিত জবি শাখা ছাত্রলীগের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ইবনে সুমন। সুমন ক্যাম্পাসে মারামারির অভিযোগে ২০১২ সালে ২৬ জানুয়ারি তার ভাই আসাদুজ্জামান শাকিলসহ ৩ ছাত্র কোতোয়ালি ও সূত্রাপুর থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন।সুমন সম্প্রতি একটি বেসরকারি চ্যানেলের অনলাইন ভার্সনের জবি সংবাদকবাদদাতা ও একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক শাহা আলম ব্যাপারীকে ব্যাপক মারধর করেন।

ক্যাম্পাসে সদ্যসাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজের একান্ত সহচর বলে পরিচিত সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম রেজার বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। ২০১৪ সালের মার্চে জবি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলমকে অস্ত্র ঠেকিয়ে টেন্ডার ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে তৎকালীন জবি প্রক্টর অশোক কুমার সাহা মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জবি প্রসাশন সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করলেও মামলা প্রত্যাহার করেনি।

এদিকে সোহাগ-নাজমুল কমিটির সময় বহিষ্কৃত জবি ছাত্রলীগ কর্মী তরিকুল। যার বিরুদ্ধে রয়েছে ভুয়া পদ সাংগঠনিক সম্পাদক পদ ব্যবহার করার অভিযোগ। তিনি জবি শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহ সম্পাদক হলেও তিনি ব্যবহার করছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদ। আরেক ভুয়া সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রুবেল (সোহাগ নাজমুল কমিটির সময় বহিষ্কৃত) বিরুদ্ধে প্রশ্ন জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।

শেখ রুবেল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষাসহ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাসের সাথে জড়িত রয়েছেন।

সাখাওয়াত হোসেন প্রিন্সের বিরুদ্ধে রয়েছে চাদাবাজি, শিক্ষা ভবনে টেন্ডার ব্যবসা, বিবাহিত ও বয়স না থাকার অভিযোগ।

এছাড়া কুমিল্লা অঞ্চলের প্রার্থী জয়নুল আবেদীন রাসেলের বিরুদ্ধে ভুয়া আপ্যায়ন সম্পাদক পরিচয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া চাঁদাবাজি করতে গিয়ে পুলিশের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। এর মধ্যে প্রশ্ন ফাঁসের মুনাফা গ্রহণ, ক্যাম্পাসে শিবির, ছাত্রদলের কর্মী নিয়ে প্রকাশ্যে শো-ডাউন দেয়া, ঢাবির হলে থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগ।

তবে ক্যাম্পাসে এই মুহূর্তে সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু ও জবির সাবেক নেতা কামরুল হাসান রিপন ও রফিকুল ইসলাম সাদেকের অত্যন্ত আস্থাভাজন নেতা হিসেবে তিনিই রয়েছেন। সম্মেলন উপলক্ষে তাকে এই কয়েকজন মোটা অঙ্কের পকেট মানি দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। তাই তাকে পদে আসীন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তারা তা বলাই যায়।

একই অঞ্চলের আরেক নেতা আনিসুর রহমান শিশির। যাকে তৎকালীন সভাপতি শরীফ নিজের ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে বহিষ্কার করেন। যদিও পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তা তুলে নেয়। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময় শিবিরের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ছিল শিশিরের। একাধিকবার শিবির পিটিয়ে সংবাদের উপলক্ষও হয়েছেন তিনি। তারমত ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে আসতে পারেন গণযোগাযোগ উন্নয়ন বিষয় সম্পাদক আপেল মাহমুদ, মমিনুর রহমান মমিন, কামরুল হাসান ।

এছাড়া বরিশাল গ্রুপের নেতা ইব্রাহীম ফরায়েজির বিরুদ্ধে রয়েছে সদরঘাট এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ। প্রশ্ন জালিয়াতির সাথেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া বেশ কিছু কর্মীর ক্লিন ইমেজ থাকলেও তারা বিভিন্ন কারণে নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জবি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে কে আসছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই সেটি প্রকাশিত হবে।

জবি শাখা ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব কাদের দেয়া হবে, তা জানিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান বলেন, যারা ক্যাম্পাসে নিয়মিত, দীর্ঘদিন ক্লিন ইমেজের, তাদের হাতে জবির নেতৃত্বের ভার দেয়া হবে। যাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, মাদকসেবী, চাঁদাবাজ নয়, তাদেরকে কমিটির দায়িত্ব দেয়া হবে।