জনগণ সঙ্গে আছে তাই বিজয়ের মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন করব–পরিকল্পনামন্ত্রী

যুগবার্তা ডেস্কঃ সারা বিশ্বের পুলিশি কার্যক্রমে কমিউনিটি পুলিশিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা। জনগণকে পুলিশের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়ে অপরাধ রোধ, অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ ব্যবস্থার লক্ষ্যে বাংলাদেশে ব্যাপকভিত্তিক কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রথমে রাজশাহী রেঞ্জের ১৬টি জেলার তিনটি পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠনের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা দেশের সব বিভাগ, জেলা ও থানা পর্যায়ে শুরু হয়। প্রত্যেক থানায় স্থানীয়ভাবে সর্বজন স্বীকৃত গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সভাপতি করে কমিটি গঠন করে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম চালু করা হয়। মাদক, জুয়া, নারী নির্যাতন, হত্যা, চুরি ডাকাতিসহ সমাজের দাগি অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্রমে জনগণের অংশীদারত্ব তৈরি করাই কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মূল লক্ষ্য।কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ এবং সাধারণ জনগণের মাঝে পারস্পরিক আস্থা ও সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কের দূরত্ব কমছে। আর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে এটি সম্ভব হচ্ছে। আমরা এমন একটি পুলিশ বাহিনী তৈরি করতে চাই, যার জনগণের কাছে জবাবদিহিতা থাকবে। আজ

শনিবার বিকেলে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা হেলিপ্যাড মাঠে নাঙ্গলকোট উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ ২০১৮ ও উন্নয়নমূলক সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানে নানা প্রকার অপকর্ম থেকে নিজেসহ অপরকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি এসব কথা বলেন।

মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন,বর্তমান পুলিশের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মাদক এবং জঙ্গিবাদ দমন করা। জঙ্গিবাদের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। মানুষকে মেরে ইসলাম কায়েম কোনো ধর্ম নয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য এলাকার জনগণ এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যরা মিলে কাজ করছেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ববোধ থেকে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সৃষ্টি। পুলিশের নিজস্ব কোনো শক্তি নেই। পুলিশের শক্তি আইনের শক্তি। জনগণের কল্যাণের জন্য এসব ব্যবহার করা হয়। পুলিশ ও জনতা একত্রিত হয়ে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে পারবে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কমিউনিটি পুলিশের মাধ্যমে পাড়া-মহল্লায় নিরাপত্তা ও নজরদারি রাখা হচ্ছে। কমিউনিটি পুলিশে নারী সদস্যরাও কাজ করছেন নিষ্ঠার সাথে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে আমাদেরকেই।

জঙ্গীবাদ, মাদক ও নারী নির্যাতন বিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে আরো উপস্থিত বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী মমতাজ বেগম এমপি, ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো: আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈশদ নুরুল ইসলাম, নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন কালু, পৌরসভা মেয়র আব্দুল মালেক, উপজেলা পরিষদ ভাইস-চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ, নাঙ্গলকোট উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম এবং অন্যান্য সকল উপজেলা চেয়ারম্যান, সকল পৌরসভার মেয়র, সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যাবৃন্দ।