জনগণের আক্রোশ থেকে কেউ রেহাই পাবে না: রিজভী

Exif_JPEG_420

স্টাফ রিপোটার: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সারা দেশের মানুষ উত্তাল হয়ে উঠেছে, আর কোনো ব্যারিকেড দিয়ে রাখতে পারবেন না। আজ যারা ফালতু কথা বলছে, হত্যা করার পরেও যারা নানাভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে— জনগণের আক্রোশ থেকে কেউ রেহাই পাবে না।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি এই পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া যাবে না। গুলি করবেন? সেই গুলিতে শরীর থেকে রক্ত ঝরবে। সেই রক্ত যে মাটিতে পড়বে সেই মাটি আরও তেজস্বী হয়। সেই মাটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে আরও অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। নারায়ণগঞ্জের এবং মুন্সিগঞ্জের দুই শাওন, ভোলার আব্দুর রহিম, নূরে আলমের যে রক্ত ঝরেছে, নিশ্চয়ই এটা বৃথা যাওয়ার জন্য নয়। বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, জনগণ প্রস্তুত হয়ে আছে চূড়ান্ত আঘাতের জন্য। প্রধানমন্ত্রী আপনি বন্দুক দিয়ে জনগণের শক্তিকে দমাতে পারবেন না। সেই রাইফেল জনগণের শক্তি কোন দিকে ঘুরিয়ে দেবে, সেটা চিন্তা করে কথা বলবেন। এখনো সময় আছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন।

নির্বাচন কমিশনার শেখ হাসিনার চাকর বাকর মন্তব্য করে রিজভী বলেন, এরা নির্বাচন কী করবে? শেখ হাসিনা যদি ‘এ’ কে ‘বি’ বলে এরাও ‘বি’ বলবে। শেখ হাসিনা যদি দিনকে রাত বলে এরা তাই বলবে। তাই এই সমস্ত চাকর বাকরদের দিয়ে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে সবার গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন কমিশন গঠন করবে, সেই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, যিনি তার জীবনের সব সুখ শান্তি বিসর্জন দিয়ে গণতন্ত্রের পক্ষে জনগণের হয়ে আজীবন সংগ্রাম করেছেন এবং এই সরকারের নির্যাতন সহ্য করছেন; এখনো বন্দি হয়ে আছেন। তারপরও তিনি মাথা নত করেননি। এই উন্নত মাথার আদর্শ অনুসারী আমরা। সেই মাথা আরও উন্নত হবে শেখ হাসিনার মাথা থুবড়ে পড়বে জনগণের আদালতে।

তিনি আরও বলেন, জনগণ বলছে, আওয়ামী লীগ এখন বদ্ধপাগলের দল। আমি বলব, বদ্ধপাগলের দল না, ধান্দার দল, ধান্দাবাজির পাগল। একটা হচ্ছে বদ্ধপাগল আর একটা হচ্ছে ধান্দার পাগল। ধান্দার পাগল হচ্ছে আবোল তাবোল বকবো কিন্তু স্বার্থ আদায় করে নেব। আওয়ামী লীগ হচ্ছে এরকম ধান্দার পাগল।

সভাপতির বক্তব্যে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন. দুর্নীতি লুটপাটের অভিশপ্ত আওয়ামী লীগকে শেখ মুজিব চাটার দল আর মওলানা ভাসানী লুটপাট সমিতি আখ্যায়িত করেছেন। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিব গনতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে আর শহীদ জিয়া ১৯৯৭৭ সালে বহুদলীয় গনতন্ত্রের কারনে আজ আওয়ামী লীগের পুনঃজন্ম হয়েছে। স্বৈরাচার এরশাদের হাত থেকে গনতন্ত্র পুনঃরুদ্ধর করেছে বেগম খালেদা জিয়া। তাই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছারা গনতন্ত্র ও জনগনের মুক্তি হবে না।

তিনি বলেন-শহীদ জিয়াউর রহমান খাল কেটে কৃষক ও কৃষি বিপ্লবের জন্য পানি আনতে গিয়ে কুমির এনেছেন। সেই কুমির হচ্ছে শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনার সরকার দুর্নীতি লুটপাট ও অর্থপাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছে। আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ হাসিনার দুঃশাসনে অতিষ্ট। দ্রব্যমুল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনগন দিশেহারা।

কর্মসুচীতে আরো বক্তব্য রাখেন এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মহাসচিব লায়ন ফারুক রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান হিন্দুরত্ম রামকৃষ্ণ সাহা, বিএনপি নেতা মীর শরাফত আলী সপু, হুমাউন কবির খান, আনোয়ার হোসেন, নিপুন রায় চৌধুরী, মানবাধিকার সংরক্ষন সংস্থার চেয়ারম্যান এডভোকেট জহুরা খাতুন জুই, পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, সাবেক কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আহসান কবির, লেবার পার্টির যুগ্ম মহাসচিব হুমাউন কবীর, আর্ন্তজাতিক সম্পাদক খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, ধর্ম সম্পাদক মুফতি তরিকুল ইসলাম সাদী, মহিলা সম্পাদিকা নাসিমা নাজনিন সরকার, প্রচার সম্পাদক মনির হোসেন, যুবমিশন সদস্য সচিব সৈকত চৌধুরী, ছাত্রমিশন সভাপতি সৈয়দ মোঃ মিলন, সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।