জঙ্গী তৎপরতায় ব্যাচেলরদের সৃষ্ট ক্ষত মুছতে সরকারকেই ঔষধ লাগাতে হবে

আশিকুল কায়েসঃ সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপে জঙ্গী তৎপরতা একদিন থেমে যাবে। জঙ্গী তৎপরতার কারনে দেশের মধ্যে ব্যাচেলরদের যে অসহনীয় ঘুর্ণিঝড় বয়ছে তা কোনদিনও থামবে কি না সেটা পরিস্কারভাবেই বুঝা যায়। এই ঘূর্ণিঝড় আয়লা, হারিকেন কিংবা সিডরের মত নয়, এটা হচ্ছে পোড়া কপালে ক্ষত সৃষ্টি হবার ঘুর্ণিঝড়। ব্যাচেলরদের কপালতো এমনিতেই পোড়া। বর্তমান সময়ে পোড়া কপালে ক্ষত সৃষ্টির জন্য দায়ি দেশের সরকারতো বটেই সাথে ব্যাচেলর নামধারী জঙ্গী-সন্ত্রাসীরা।ব্যাচেলরদের কপালে আগুন ধরিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে বিগতদিনে ব্যাচেলরদের পাশে কেউ ছিলনা এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।
খুব বেশি সময়ের ব্যবধানে না হলেও প্রায় প্রতিবছর যখন সরকার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে সেটার দূর্ভোগ পর্যন্ত ব্যাচেলরদের উপর এসে বর্তায়। কেননা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাড়ীওয়ালারা সুযোগ পায় বাসাভাড়া বাড়াতে। এমনিতেই অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণ করে মাসের পর মাস বাড়ীওয়ালারা ব্যাচেলরদের রক্ত চুষে খাচ্ছে।একটা ফ্লাটে যে পরিমাণ মাসিক ভাড়া হওয়া উচিত, বাড়ীওয়ালারা সেই পরিমাণ ভাড়া নির্ধারণ না করে ব্যাচেলরদের দূর্বলতা বুঝেই দ্বীগুনহারে ভাড়া বৃদ্ধি করে। আর তারই সাথে জড়িয়ে দেয় রুমের থাকার জন্য নানান সীমাবদ্ধতা। এর ব্যতিক্রম হলে যেন ব্যাচেলরদের রুমে থাকাটা একপ্রকার দুস্কর হয়ে পড়ে। ব্যাচেলর হয়ে শুনতে হয় বিভিন্ন নিয়োম কানুন, বাসাবাড়ীর সামনে দাঁড়ানো যাবে না, কারোর দিকে চোখ তুলে তাকানোও যাবে না, দুই রুমে সর্বোচ্চ দুইটি লাইটের বেশি জ্বালানো যাবেনা এমনকি ফ্রিজ, টিভি কিংবা আইরোন মেশিনেরতো কোন প্রশ্নই আসেনা। রুম ভাড়া নেওয়ার পর যেন মালিকের কঠিন নজরদারী থাকে ব্যাচেলর রুমের উপর। রুমে কোন বন্ধু কিংবা গেস্ট এলে সেটার জন্য চোখ রাঙানি শুনতে হয় বাড়ীওয়ালার নিকট। কিছু কিছু বাড়ীওয়ালার বক্তব্য এমনই উচ্ছিষ্ট হয়ে থাকে- মনে হয় কষ্ট করে লেখাপড়া করে যে পরিমাণ সম্মান অর্জন করেছি সেটা নিমেষেই শেষ হয়ে গেল। অবিবাহিত জীবন ব্যবস্থায় পরিবার থেকে দূরে থাকলে যতটুকু অযত্ন অবহেলা এসে ভর করে ব্যাচেলর নামধারী ব্যক্তির উপর, ঠিক সেই পরিমান যন্ত্রণা একজন এতিম শিশু মনে হয় বোধ করে না।
এত কষ্ট করে দিনাপাত করা সত্বেও এদের পাশে দাঁড়ানোর বাস্তবিক ক্ষেত্রে কেউ নেই। রবি ঠাকুরের ভাষায় “তের-চৌদ্দ বছরের মত পৃথিবীতে এমন বালাই আর নেই” কথাটা বাস্তবিক প্রয়োগে একেবারেই খাঁটি। কিন্তু তিনি বেঁচে থাকলে ব্যাচেলর জীবন সম্পর্কে এই কথাটাই উল্লেখ করতেন “বিয়ের আগ মুহূর্তে পৃথিবীতে কষ্টের জীবন বলতে ব্যাচেলর ছাড়া আর নেই”। আমার কাছে প্রশ্ন এসে ভর করে- যারা বিয়ে না করে মারা যায় তাদের কি মৃত্যুর পরেও কষ্ট ভোগ করতে হয়?
‘৭১ সালে মা বোনের সম্ভ্রমকে জলাঞ্জলি দিয়ে, ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে শত্রুদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করেছি। দেশে গণতন্ত্রের ব্যবস্থা করেছি। স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে মানুষের সাথে সম্প্রীতি বজায় রাখতে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়েছি। অসাম্প্রদায়িক বলতে আমরা শুধু বিভিন্ন ধর্মের সম্প্রীতিকেই বুঝি, এখানে মানুষের সম্প্রীতিকে চাপা দেওয়া হয়েছে। মানুষই যদি বেঁচে না থাকে তাহলে ধর্মের সম্প্রীতি, অসাম্প্রদায়িক অসাম্প্রদায়িক বলে চিৎকার করে কি লাভ? অথচ এসমাজের মানুষগুলো জোয়ানদেরকে ব্যাচেলর সম্প্রদায়ের অধিভুক্ত করে ফেলেছে এখবর কেউ রাখি না। আজকের সমাজে ব্যাচেলর সম্প্রদায় বড্ড ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছে, যেটার গ্লানি শুধু ব্যাচেলর সম্প্রদায়কেই বহন করতে হচ্ছে।
যারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালায় তাদের সাথে ব্যাচেলরদের কোন ঘনিষ্ঠতা কিংবা আত্মীয়তা নেই এবং না আছে কোন সম্পর্ক, একথাগুলো চিৎকার করে বলা সত্বেও কেন ব্যাচেলরদের কপালে ক্ষত সৃষ্টি হবে আমার বোধগম্য হয় না। তবে কি ব্যাচেলরদের ক্ষত সৃষ্টির জন্য গভীর কোন ষড়যন্ত্র কাজ করছে? সেটারও কোন স্পষ্ট কারন খুজে বের করার জন্য কোন মহল উৎসাহিত নয়।রাষ্ট্র থেকে শুরু করে সমাজের নিম্নস্তর পর্যন্ত কি ব্যাচেলরদের এভাবেই অবহেলার চোখে দেখা হবে? এদের পাশে দাঁড়ানোর মত কি কেউ নেই?
জঙ্গী তৎপরতার কারনে ব্যাচেলরদের দূর্ভোগের শেষ নেই। পুলিশি বার্তায় বলা হয়েছিল ব্যাচেলরদের বাড়ী ভাড়া দিতে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।সামান্য কথা বলেই সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন তাদের দায় এড়িয়ে চলে গেছে। এরপর থেকে ব্যাচেলর সম্পর্কে কোন মাথা ব্যথা নেই, সন্ত্রাসীদের সাথে ব্যাচেলরদের নাম জড়িয়ে দেশের পুরো ব্যাচেলর সম্প্রদায়কে তুষ্ট করেছে বাংলাদেশ সরকার। বালিশ, কাঁথা নিয়ে ব্যাচেলর আন্দোলন চললেও সরকার পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, বরং ব্যাচেলর আন্দোলন জোরদার হলে সরকার পক্ষ তাদের কোন চোখে দেখবে সেটা বলার অপেক্ষা হয়তো রাখে না।
ব্যাচেলরদের ক্ষত সৃষ্টির জন্য যেমন সরকার ও প্রশাসন দায়ী ঠিক তেমনি এই ক্ষত মুছতে হলে ব্যাচেলরদের দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে। সেক্ষেত্রে বাসা বাড়ীতে ব্যাচেলরদের থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাচেলরদের কথা চিন্তা করে বাড়ীভাড়া নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।-লেখকঃআশিকুল কায়েস, সভাপতি, বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ।