জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যাদের মধ্যে ঐক্য দরকার, তাদের মধ্যে ঐক্য হয়েছে-প্রধানমন্ত্রী

41

যুগবার্তা ডেস্কঃ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, জাতীয় ঐক্য ইতিমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। যারা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, তাদের কথা আলাদা। এদের বাইরে যাদের মধ্যে ঐক্য দরকার, তাদের মধ্যে ঐক্য হয়েছে। আজ রবিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
আরেক সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল বলছে, তাদের সঙ্গে আলোচনায় না বসলে উগ্রবাদ বন্ধ হবে না। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের (রাজনৈতিক দল) এই কথার অর্থ মনে হয়, তাদের সঙ্গে বসলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বন্ধ হবে, নইলে তারা তা চালিয়েই যাবে।
বাংলাদেশ সম্মানজনক স্থানে পৌঁছছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মাসেতুর অর্থায়ন বন্ধ করা হলো একটি ব্যক্তির স্বার্থে। আমি পদ্মাসেতু নির্মাণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। বিশ্বব্যাংক চায় আমরা সারাজীবন ভিক্ষা চাইবো, আর তারা ভিক্ষা দিয়ে যাবে। আমরা বাংলাদেশকে সম্মানজনক স্থানে নিয়ে যাওয়ার নীতি নিয়ে ছিলাম। এখন বাংলাদেশ সম্মানজনক স্থানে পৌঁছে গেছে। যখন উন্নত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি অর্জন মাইনাস (ঋণাত্মক), তখন বাংলাদেশ ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সব সময় সন্ত্রাবিরোধী, জঙ্গিবাদবিরোধী। বাংলাদেশের মানুষকে সব সময় এর বিরুদ্ধে সচেতন থাকতে হবে। যারা যার অবস্থানে থেকে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে আহ্বান জানাচ্ছি।”
শেখ হাসিনা বলেন, যাদের কোনো অভাবে নেই, ভালো খায়, ভালো পরে, তারাই এখন জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছে।
“যেখানে তাদের জন্য কোনো কিছুই অপূরণীয় থাকে না, সেখানে কেন তারা এটা করছে, এর যৌক্তিকতা কী?
“তারা এখন বেহেস্তের হুর পরী পাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, এর কী যৌকিক্ততা? কারা তাদের পেছন থেকে উসকাচ্ছে?”
এই তরুণদের কারা অস্ত্র দিচ্ছে, কারা অর্থ যোগাচ্ছে, তাদের তথ্য সম্মিলিতভাবে খুঁজে বের করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মানুষ খুন করলে বেহেস্তের দরজা খোলে না, খুলবে না।”
আরও হামলা হতে পারে- সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক সাংবাদিক জানতে চান, এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য আছে কি না।
উত্তরে প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদকে একটি বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, “একবার যখন ঘটেছে, এরা তো বসে থাকবে না, ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে।”
জঙ্গিবাদের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলোকে দেশের প্রতিটি এলাকায় কার্যক্রম চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মত প্রতিবেশী ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গেও এ বিষয়ে সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময়ের সমঝোতা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মঙ্গোলিয়ার উলানবাটোরে সাম্প্রতিক এশিয়া-ইউরোপ (আসেম) শীর্ষ সম্মেলনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তা সরাসরি প্রচার করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে গুলশানে দেশের নজিরবিহীন জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেও এই প্রথম সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করার সুযোগ পেলেন।
মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটরে অনুষ্ঠিত একাদশ এশিয়া-ইউরোপ সম্মেলনে (আসেম) যোগদান শেষে প্রধানমন্ত্রী আজ সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।