জঙ্গিবাদবিরোধী যুব ইউনিয়নের কনভেনশন

যুগবার্তা ডেস্কঃ আজ শনিবার, সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন আয়োজিত ‘জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় যুব কনভেনশন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। “সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী হামলায় আক্রান্ত মানবতা, তারুণ্যের সাহসিকতায় এসো প্রতিরোধ গড়ি” স্লোগানকে সামনে রেখে সারাদেশের যুবকদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী কনভেনশনে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক অজয় রায়, মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, প্রকৌশলী মুহাম্মদ হিলালউদ্দিন, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক সাদেকা হালিম।
কনভেনশনটি দুটি অধিবেশনে বিভক্ত ছিল। কনভেনশনটিতে ১ম অধিবেশনে যুব ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মূল আলোচনাপত্র উত্থাপন করেন হাবীব ইমন। কনভেনশনটি সঞ্চালনা করেন যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আদনান রিয়াদ।
তত্ত্ববধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাড. সুলতানা কামাল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ধারায় বাংলাদেশকে ফিরিয়ে এনে সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদকে মোকাবেলা করতে হবে। এক্ষেত্রে এদেশের তরুণ মুক্তমনাকে ঐক্যবদ্ধ সহাবস্থান বাড়াতে হবে। এদেশে নারীদের পোশাকের মধ্যে পাকিস্তানি ভাবধারার পরিবর্তন করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটাতে হবে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, জঙ্গিবাদকে প্রতিরোধ করতে হলে একদিকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও এদের পিছনে যে শক্তিগুলো ক্রিয়াশীল তাদেরকে পরাস্ত করতে হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের যুবকদের পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, ক্ষেতমজুরদের ঐক্যবদ্ধ করে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।
অর্থনীতিবিদ এম.এম. আকাশ বলেন, জঙ্গিবাদের শেকড় সমাজের ভেতরে যেমন আছে তেমনি তা বৈশ্বিক জঙ্গি আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নিজস্ব ডিজাইনে এই জঙ্গিবাদী আন্দোলন ফ্রাঙ্কেস্টাইন হিসাবে আজ গড়ে উঠে সবাইকে গ্রাস করতে বসেছে। তাই সাম্রাজ্যবাদ ও জঙ্গিবাদকে বহুমুখী সংগ্রামের মাধ্যমেই আজ পরাস্ত করতে হবে। যুবকদের আজ দেশের সর্বত্র ছবিয়ে পড়ে জনগণকে নিয়েই ধর্মের এই বিকৃত প্রকাশকে ঠেকাতে হবে।
অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনা করেন শ্রমিকনেতা আসলাম খান, যুবনেতা আব্দুল্লাহ আল-কাফি রতন, যুব আন্দোলনের সভাপতি মোশাহিদা আহমেদ, যুবজোটের সভাপতি রোকনুজ্জামান, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা কাজী রুহুল আমিন, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সুমনা সোমা, যুবনেতা খান আসাদুজ্জামান মাসুম, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জি এম জিলানী শুভ প্রমুখ।
কনভেনশন শেষে দেশের ১২টি স্থানে জঙ্গিবাদবিরোধী কনভেনশনসহ ৪ দফা কর্মসূচি ঘোষিত হয়।