ছেলের সামনে মাকে ধর্ষনের প্রতিবাদে জনতার মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত ৩,আহত ৫০

67

যুগবার্তা ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের কালীহাতীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৩জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশত আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে এলাকাবাসীর সাথে পুলিশের এই গোলাগুলি ও সংঘর্ষেও ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতরা হলেন- কালীহাতী এলাকার শামীম, ফারুক হোসেন ও শ্যামল কান্তি। তাদের মধ্যে ফারুকের বাড়ি সাতুটিয়া আর শামীমের বাড়ি সালেঙ্গা। এদের মধ্যে শামীম টাঙ্গাইল মেডিকেল ও ফারুক হোসেন কালিহাতী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মারা যান।
জানা গেছে, টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীর প্রেমিকের মাকে সালিসে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিক্ষোভসহ সড়ক অবরোধ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ। আর তারই জের ধরে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর এলাকাবাসী কালীহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ করে। পরে তারা টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ অবরোধ ওঠাতে গেলে অবরোধকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়ে মারে। সে সময় তারা এক পুলিশ সদস্যকে আটক করে মারধর করতে থাকে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে অবরোধকারীদের ধাওয়া দেয়। এসময় পুলিশ অবরোধকারীদের হঠাতে লাঠিপেটা, প্রায় ৬০ রাউন্ড গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে এক নারীসহ ছয় ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া আরো প্রায় ৫০ জন আহত হন। গুলিবিদ্ধসহ আহতদের কালীহাতী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন জনের মৃত্যু হয়। এদিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলাকাবাসীর ইটপাটকেল নিক্ষেপ, রাস্তায় আগুন জ্বালানো এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এখনো চলছে।
নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসক কর্তৃক ৫০ হাজার করে দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, জেলার কালীহাতী উপজেলা সদরের সাতুটিয়া এলাকার মোজাফফর হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে রোমার স্ত্রী হোসনে আরার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার শ্রমজীবী আলামিনের (১৭) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কয়েক মাস আগে আলামিনের সঙ্গে পালিয়ে যায় হোসনে আরা। পরে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর গত ১২ সেপ্টেম্বর আবারো আলামিনের সঙ্গে পালিয়ে যায় হোসনে আরা। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে রোমা ও তাদের পরিবারের লোকেরা আলোচনার কথা বলে আলামিন, তার মা হোসনে আরাকে রোমাদের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর সেখানে বাড়ির উঠানে আলামিনকে বিবস্ত্র করেন রোমা ও তার ভগ্নিপতি হাফিজ। এ সময় আলামিনের মাকেও বিবস্ত্র করা হয়। মারধরের পাশাপাশি আলামিনের মাকে ঘরে নিয়ে রোমা ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার বাসিন্দারা প্রতিবাদে রা¯াÍয় নামেন।