ছেলেটার সংগ্রাম কবে শেষ হবে

ফজলুল বারীঃ আমার প্রিয় প্রজন্ম এই ছেলেটার সংগ্রাম কবে শেষ হবে? ও যখন ক্লাস এইটে পড়ে তখন থেকে তার সংগ্রামের সঙ্গে আমার পরিচয়। একদিন জনকন্ঠ অফিসে ফোন করে বললো তার দরিদ্র বাবা তাকে এক বাসায় কাজের ছেলে হিসাবে রেখে গেছে। কিন্তু সে পড়াশুনা করতে চায়। ছেলেটির আকুতি শুনে ওই বাসার লোকজনের সঙ্গে কথা বললাম আমি। তাদেরকে বুঝিয়ে বললাম ছেলেটিকে ছেড়ে দিন। আমরা তাকে পড়াবো। তারা রাজিও হয়ে গেলো।
এরপর ছেলেটিকে নিয়ে একদিন জনকন্ঠে লিখলাম। এক বৌদ্ধ পরিবার তার দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখালো। আয়োজনটি এমনভাবে করা হলো ছেলেটির থাকার ব্যবস্থা করা হলো কমলাপুর বৌদ্ধ বিহারের হোস্টেলে। আর ছেলেটি খাওয়া-দাওয়া করতো তার নতুন বৌদ্ধ মায়ের বাসায়। এভাবে পড়াশুনা শেষে সে চাকরি নিলো। ওই পরিবারের এক সদস্য আমাকে একদিন জাপান থেকে জানালেন ছেলেটি চাকরি করছে গ্রামীন ফোনে। শুনে খুব খুশি লাগলো। এবার দেশে যাবার পর ছেলেটি আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। তখন শুনি তার চাকরিটি আসলে স্থায়ী না। চুক্তি ভিত্তিক। চুক্তির মেয়াদ শেষ গেলে আবার কোথায় চাকরি পাবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে।
সেই চুক্তির চাকরিটি চলে যাবার পর সে এখন বেকার। দু’দিন আগে সে আমার বাহারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। বাহার যা বললো তা শুনে চোখে জল আসে। চাকরি চলে যাবার পর সে টিউশনি শুরু করেছিল। কারন তার কাছে থেকে পড়ে তার ছোটভাই। বাড়িতে টাকা পাঠাতে হয়। কিন্তু তার এখন টিউশনিও নেই। গত একমাস ধরে তার হাতে কোন টাকাও নেই। বাহারের সঙ্গে দেখা করতে সে কয়েক কিঃমিঃ হেঁটে এসেছে। বাহারের হাতে চার-পাঁচশ টাকা ছিল। সেখান থেকে অর্ধেক টাকা সে ছেলেটিকে দিয়ে দেয়। ঘরে একটা পাউরুটি ছিল। সেটিও সে দিয়ে দেয় ছেলেটিকে। সব শুনে বাহারের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও বাড়ে।
আমার অসহায় লাগে। ছেলেটি এত সমস্যায়, কিন্তু সে আমাকে একবারও বললোনা! আসলে এই ছেলেটি আমার কাছে কোনদিন কোন টাকা-পয়সা চায়নি। সে আমার টাকা নেবে কিনা সে সংশয়ে আজ বাহারের কাছে তার জন্যে কিছু টাকা বিকাশ করে পাঠিয়েছি। তার জন্যে একটা চাকরি অথবা টিউশনি দরকার। কে দেবেন? ইংরেজিতে ভালো ছেলেটি। চাকরি-টিউশনি দিতে না পারেন সবাই তাকে অল্প অল্প করে টাকা দিন। এ ছেলে চাকরি-টিউশনি পাবেই। এই দুঃসময়টায় তাকে আমরা কিছু সাপোর্ট দিতে চাই। হাত বাড়ান দয়ালু মানুষেরা।-লেখকঃ ফজলুল বারী, সাংবাদিক