ছাত্র ফ্রন্ট’র গোলটেবিল বৈঠক

97

যুগবার্তা ডেস্কঃ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আজ বিকালে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে “প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন ২০১৬: বাণিজ্যিকীকরণ-বেসরকারিকরণ ও বহুধারার শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈধতার আইন” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি নাঈমা খালেদ মনিকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল(মার্কসবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, ব্যারিষ্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, শিক্ষাবার্তার সম্পাদক এ.এন রাশেদা, স্টেট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মামুন আল রশীদ, ত্রৈমাসিক নতুন দিগন্ত পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মযহারুল ইসলাম বাবলা, শিক্ষা ও শিশু রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক সাহিত্যিক রাখাল রাহা, সাংবাদিক সুশান্ত সিনহা প্রমুখ। সভার শুরুতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্নেহাদ্রি চক্রবর্তী রিন্টু।
অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এ শিক্ষা আইন কোনোভাবে জনগণের জন্য গ্রহণ করার মতো নয় শাসকদল তাদের স্বার্থে ও প্রয়োজনে এ শিক্ষা আইন প্রণয়ন করছে। সরকার মতামত চাইছে ঠিক কিন্তু আমার আপনার কোনো মতামত গ্রহণ করবে না। সিভিল সোসাইটির লোকজনদের নিয়ে এ আইন করা হছে। অগণতান্ত্রিক সরকার অগণতান্ত্রিকভাবেই এ আইন প্রণয়ন করছে।”
কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী বলেন, “ “শিক্ষা আইনে একদিকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলে ‘আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক’ শিক্ষার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছে অন্যদিকে আবার ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমতি দেয়ার বিধানও রেখেছে। যা সংবিধান প্রতিশ্রুত শিক্ষার সার্বজনীন অধিকারের পরিপন্থী। স্বঘোষিত সংবিধান রক্ষাকারী সরকার এভাবে নিজেই সংবিধান লঙ্ঘন করছে। সংবিধানে একই পদ্ধতির শিক্ষার কথা বলা হলেও বিগত শিক্ষানীতির মতই বর্তমান শিক্ষা আইনেও তিন ধারার শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈধতা দেয়া হয়েছে। তিনধারায় বিভক্ত এ শিক্ষাব্যবস্থা যেমন বৈষম্য তৈরি করছে তেমনি দেশে μমবর্ধমান মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতাকেই পরিপুষ্ট করছে। আজকে মৌলবাদীরাও হিন্দুত্ববাদের ধুয়া তুলে এই শিক্ষা আইন বাতিলের দাবি করছে। তাদের দাবি মানলে বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র প্রমুখ মহান সাহিত্যিকের রচনা পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দিতে হবে। যারা বাঙলা ভাষা ও কৃষ্টির রূপকার, এদেশের মানুষকে আধুনিক গণতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণার সাথে পরিচয় করিয়েছেন, সভ্যতার অগ্রগতিকে সচল করেছেন তাদের সৃষ্টি ও উত্তরাধিকার বাদ দিয়ে মানুষকে আবার পশ্চাদপদ জীবনের দিকে ঠেলে চায় মৌলবাদীরা। ফলে মৌলবাদীরা যে কারণে এই দাবি করছে তাদের সাথে আমাদের মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।”
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, “প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে শিক্ষা বাজেট নিয়ে কিছু বলা হয় নি। শিক্ষা বাজেটের সাথেই শিক্ষার মানোনড়বয়নের প্রশড়ব যুক্ত। শিক্ষা আইনে অনেক সুভাষণ থাকলেও তা বাস্তবায়নের কোনো দিক নির্দেশনা নেই। তবে স্ববিরোধী অনেক বক্তব্য আছে। গাইড বই বন্ধের কথা বলে আবার সহায়ক বইয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কোচিং বন্ধের কথা বললেও স্কুলে যে শিক্ষকরা কোচিং করান সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই। সরকার যতই শিক্ষানীতি, শিক্ষা আইন করছে ততই শিক্ষার বারোটা বেজে যাচ্ছে।”
উল্লেখ্য যে ,গত ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ নের্তৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’ প্রণয়ন করে। সেই সময়ই আমরা বলেছিলাম
এই শিক্ষানীতি শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ-বেসরকারিকরণকে ত্বরান্বিত করবে। গত কয়েক বছরে প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে কয়েক
গুণ ফি বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে আমাদের আশঙ্কা সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। সেই শিক্ষানীতির উপর ভিত্তি করেই সরকার এবার শিক্ষা আইন করার উদ্যোগ
নিয়েছে। ফলে এই আইনেও ছাত্রস্বার্থবিরোধী অনেক বিধান যুক্ত করা হয়েছে। তাই আমরা শিক্ষার গণতান্ত্রিক অধিকারহরণকারী এই শিক্ষা আইন
বাতিলের দাবি করেছি। গত ০৯ মে এ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ০২ জুন শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা
হবে।