ছাত্র ইউনিয়নের ৩৮তম ঢাকা মহানগর সম্মেলন

34

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা মহানগর সংসদের ৩৮তম সম্মেলনের উদ্বোধনী সমাবেশে উদ্বোধকের বক্তব্যে উপমহাদেশের প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা, বর্ষিয়ান বামপন্থী রাজনীতিবিদ কমরেড মনজুরুল আহসান খান বলেন, চলমান পুঁজি ও শোষণভিত্তিক সমাজ ভেঙে নতুন জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন ছাত্র ইউনিয়ন সেই পথের অগ্রসেনানীর ভূমিকা পালন করবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্ত্বরে ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা মহানগর সংসদের ৩৮তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও ঢাকা শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী সম্মেলনের উদ্বোধনী সমাবেশে যোগ দেয়। সম্মেলনের শ্লোগান ছিল “রাস্তায় নেমেছে, দেয়ালে উঠেছে অক্ষরগুলো সারি সারি, কোন শিকলে বাঁধবে তাদের, বল তুমি স্বৈরাচারী?”
ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি অনিক রায় এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জিএম রাব্বীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সম্মেলন উদ্বোধন করেন বর্ষিয়ান বামপন্থী রাজনীতিবিদ কমরেড মনজুরুল আহসান খান। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মার্কসবাদী তাত্ত্বিক ডা. মনোজ দাশ, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছাত্রনেতা জিএম জিলানী শুভ। সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান ছাত্রনেতা দীপক শীল, আহ্বায়ক ছাত্রনেতা জহর লাল রায় প্রমুখ।
সমাবেশে কমরেড মনজুরুল আহসান খান আরো বলেন, অনেক ছাত্র সংগঠন আজ ছাত্র বর্জিত। তিনি ছাত্র ইউনিয়নকে এর ব্যতিক্রম উল্লেখ করে বলেন, যেখানেই আন্দোলন, ছাত্র স্বার্থের সংকট সেখানে ছাত্র ইউনিয়নকে অগ্রণী ভূমিকায় দেখা যায়। তিনি আরো বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ আজো চলমান। ছাত্র ইউনিয়নকে ছাত্র সমাজের দাবি দাওয়ার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সমাজের মৌলিক পরিবর্তন সাধনের জন্য বৃহত্তর লড়াইয়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, বিপ্লবী ধারার সংগঠন হিসেবে এটাই ছাত্র ইউনিয়ন কর্তব্য।
সম্মেলনে মার্কসবাদী তাত্ত্বিক ডা. মনোজ দাশ বলেন, ক্ষমতাসীনরা দেশে আজ ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণ চালাচ্ছে। বুর্জোয়ারা যেখানে গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে পরিপূরক বলে থাকেন, সেখানে ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারা গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে একটিকে অন্যটির বিকল্প হিসেবে প্রচার করছে। তিনি বলেন, দেশের শ্রমজীবি মেহনতি মানুষের সন্তানরা আজ শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত। শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য আর বাণিজ্যিকীকরণ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষা শেষে কর্পোরেট শোষণের যাতাকলে যুব সমাজের নিষ্পেষিত হওয়াটাই আজ নিয়তিতে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য বাম-প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের কোন বিকল্প নেই। তিনি বামপন্থীদের ঐক্যের প্রক্রিয়ায় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বামপন্থীরাই দেশের সম্পদ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও জনগণের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হবে।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রনেতা অনিক রায় বলেন, একটি একমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ছাত্র সমাজ লড়াই সংগ্রাম চালাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে ক্ষমতাসীন সরকার শিক্ষার সাম্প্রদায়িকীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণের মতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিবাদ করলেই স্বৈরাচারি জুলুম নির্যাতন নেমে আসছে। তিনি আরো বলেন, সারাদেশে অর্ধশতাধিক ছাত্র ইউনিয়ন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু ছাত্র ইউনিয়নের অটল সংগ্রামী পথচলাকে থামাতে পারেনি। তিনি আগামী দিনের ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র সমাজকে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল শোভাযাত্রা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপারেজয় বাংলা, কলা ভবন, মধুর ক্যান্টিন, শাহাবাগ ঘুরে টিএসসি’র রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।