ছাত্রলীগকে নিজের স্বার্থ উপেক্ষা করে দেশ ও জনগনের কল্যাণে রাজনীতি করতে হবে–পরিকল্পনামন্ত্রী

যুগবার্তা ডেস্কঃ জাতীয় প্রয়োজনেই ছাত্রলীগের জন্ম হয়েছিল। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন ছাত্রলীগ। এখনো দেশের যেকোন সংকটে ছাত্রলীগ বলিষ্ট ভূমিকা রাখছে। ছাত্রলীগকে কেউ রুখতে পারবে না। ১৯৪৮ সালের ৪ ঠা জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্র লীগের জন্মের পর থেকে এখন অবধি বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের যে কোন জায়গায় যারা ভাল অবস্থানে দাড়িয়েছে তারা ছাত্র লীগের রাজনীতি করেছে। ছাত্র লীগ শিক্ষা-শান্তি-প্রগতির প্রতীক। তাই প্রতিটা ছাত্রলীগ কর্মীকে হতে হবে আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত এবং আদর্শিক রাজনীতিবিদ। ছাত্রলীগকে নিজের স্বার্থ উপেক্ষা করে দেশ ও জনগনের কল্যাণে রাজনীতি করতে হবে। যেমনটি অতীতেও করেছে। মাতৃস্নেহ দিয়ে ছাত্রলীগকে মুল্যায়ন করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার কুমিল্লা-১০ নির্বাচনী এলাকার ছাত্রলীগের কর্মীসমাবেশের প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন, মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করে সারা বিশ্বের কাছে মাথা উচু করে দিয়েছে আমরা তা ধরে রাখতে চাই। এ জন্য দলের প্রতিটি কর্মীকে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। সেই সাথে নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। বাংলাদেশকে মাদক মুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধান মন্ত্রী, তাই সে বিষয়েও আমাদের আন্তরিকভাবে কাজ করে যেতে হবে। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ একই পরিবার। তাই কাউকেই দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা চলবেনা। এই পরিবারে অনেক সদস্য। এই পরিবারের নিয়ম-শৃঙ্খলা বহির্ভূত কোনো কাজ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করব। আমারা পরিবার থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দলের শৃঙ্খলা ঠিক রেখে রাজনীতি করার শিক্ষা পেয়েছি। আগামী নির্বাচনকে মাথায় রেখে আমাদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা যে লক্ষ্যে যাচ্ছি, যেভাবে যাচ্ছি তাতে ওয়াল্ড ইকোনোমিক ফোরাম ও বিজনেস ইনসাইডারের গবেষনায় বেরিয়ে এসেছে ৫ম এশিয়ান টাইগার হবে বাংলাদেশ। এই বছরের শেষ নাগাদ প্রবৃদ্ধি ৮% এর উপরে অর্জন করব। আইএমএফ-ওয়াল্ড ব্যাংক যেটি অনুসরন করে সেই ক্রয়ক্ষমতা সমতার দিক থেকে (পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি- পিপিপি) ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিংগাপুরের, ইরাক, কলম্বিয়ার মত দেশগুলোকে পিছে ফেলে অর্থনৈতিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। ২০৪১ এর সোনারবাংলা বিনির্মানে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগীতা করে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো উন্নত দেশের কাতারে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো: আয়াতউল্লাহর সভাপতিত্বে কর্মীসমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন সদর দক্ষিণ উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার, লালমাই উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বিকম, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শাহাদত হোসেন তসলিম, নাঙ্গলকোট উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, লালমাই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিজান মজুমদার, সকল পৌরসভার মেয়র, সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যাবৃন্দসহ কুমিল্লা-১০ নির্বাচনী এলাকার ছাত্রলীগের সকল সদস্যবৃন্দ।