চা শ্রমিকদের উচ্ছেদ বন্ধে ঢাকায় বেজা কার্যালয়ের সামনে ধর্ণা

87

যুগবার্তা ডেস্কঃ হবিগঞ্জের বেগমখান চা বাগানের ফসলি কৃষি জমি থেকে চা শ্রমিকদের উচ্ছেদ করে ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ করার প্রতিবাদে চাঁন্দপুর বেগমখান চা বাগান ভূমিরক্ষা কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও বিশিষ্ট নাগরিকদের উদ্যোগে ঢাকার কাওরানবাজারস্থ ‘বাংলাদেশ ইকোনোমিক জোন অথরিটি-বেজা’ কার্যালয়ের সামনে ২১ জানুয়ারি সকালে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সিপিবি সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, গণফোরামের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জনাব মফিজুল ইসলাম কামাল, বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, গণসংহতি আন্দোলনের ফিরোজ আহম্মেদ, নাগরিক ঐক্যের মাহবুব জামান কাদেরী, কমিউনিস্ট লীগের মোশারফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহিদুল ইসলাম সবুজ, ন্যাপ এর শফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, চাঁন্দপুর বেগমখান চা বাগান ভূমিরক্ষা কমিটির যুগ্মআহবায়ক স্বপন সাঁওতাল, কাঞ্চন পাত্র, ঢাকাস্থ চা ছাত্র-যুব পরিষদের নেতা মোহন রবিদাস, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের আবুল হাসান, ছাত্র ইউনিয়নের নেতা মাহমুদা আক্তার, চা শ্রমিক কনক লতা। সমাবেশ পরিচালনা করেন সিপিবি প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন।
উপস্থিত থেকে সংহতি জানিয়েছেন বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, জুলফিকার আলী, সিপিবির আহসান হাবীব লাভলু, কাফী রতন, সাজেদুল হক রুবেল, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী, শ্রমিক ফ্রন্টের আব্দুর রাজ্জাক, গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের আহসান হাবীব বুলবুল, খালেকুজ্জামান লিপন, গার্মেন্টস টিইউসি’র শামীম, জলি তালুকদার, গণসংস্কৃতি ফ্রন্টের মফিজুর রহমান লাল্টু, শিল্পী অরূপ রাহী, কফিল উদ্দিন, যুবনেতা আব্দুল মান্নান, ছাত্র ইউনিয়নের জিলানী শুভ, লেখক-গবেষক মাহা মির্জা, নাগরিক ঐক্যের ইফতেখার আহম্মেদ বাবু, ডা. ফজলুর রহমানসহ আরও অনেকে।
সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম চাঁন্দপুর-বেগমখান চা বাগানের কৃষি জমিতে ইকোনোমিক জোন করে চা শ্রমিকদের উচ্ছেদ করার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, ১৫০ বছর ধরে চা শ্রমিকেরা ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কার করে যে আবাদি জমি তৈরি করেছে তা কোনমতেই কেউ কেড়ে নিতে পারে না। এটা চা শ্রমিকদের অধিকার। তিনি বেজার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেন, বাগানের কৃষি জমিকে অকৃষি দেখিয়ে সেখানে ইকোনোমিক জোন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে যে জোন করতে চাইছে তাতে কোন দিনই চা শ্রমিকসহ জনগণ তথা দেশবাসীর লাভ হবে না। তারা আশ^াস দিচ্ছেন ‘সেজ’ হলে চাকরি হবে, এটা ডাহা মিথ্যা। ভারতে ৬০০ ‘সেজ’ করে বলা হয়েছিল ৩৯ লাখ কর্মসংস্থান হবে, হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার। বাংলাদেশেও রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সময় কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছিল কিন্তু হয়নি। তিনি বলেন, চা শ্রমিক ও দেশবাসী সরকার ও বেজা’র এই মিথ্যাআশ^াসে কোন মানুষই বিভ্রান্ত হবে না। তিনি চা শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই আন্দোলন যৌক্তিক ফলে এই সংগ্রাম জয়যুক্ত হবেই।
সমাবেবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত দেড়শত বছরে এখানে বংশপরম্পরায় থেকে চা শ্রমিক জনগোষ্ঠী শ্রম ঘাম দিয়ে গড়ে তুলেছে চা বাগানগুলো। এখানে উৎপাদিত চা দেশের চাহিদা মেটায়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। গত দেড়শত বছরেও তারা জমির অধিকার পায়নি। দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু ব্রিটিশ বিরোধী, পাকিস্তান বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেয়া চা শ্রমিকরা স্বাধীনতার সুফল পায়নি। বরং স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর এবার তারা জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় পতিত হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কারখানার বর্জ্য সুতাং নদী দিয়ে নিষ্কাষিত হলে, এই এলাকার পুকুর-নালা, হাওর-বাওড় প্রবল দূষণের স্বীকার হবে, ধ্বংস হবে মৎস্য ভা-ার। অর্থাৎ এর বহুমুখী প্রভাবে সামাজিক ভারসাম্যটাই চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে জাতিসংঘের চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ পুরষ্কারে ভূষিত হয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কৃষি জমিতে কলকারখানা স্থাপন না করার ঘোষণা দেন। এছাড়াও কৃষি জমিতে শিল্প কারখানা স্থাপন দেশের বিদ্যমান কৃষি জমি ব্যবহার আইনের পরিপন্থী। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, চান্দপুর বেগমখান চা বাগানের কৃষি জমিতে ইকোনোমিক জোন স্থাপনের মধ্য দিয়ে সরকার নিজেই দেশের আইন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে লঙ্ঘন করছে।
নেতৃবৃন্দ আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মধ্যে উপরোক্ত দাবি না মানলে সংসদ অভিযান, রাজপথ অবরোধ, ধর্মঘটসহ কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।