চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে টেলিযোগাযোগ ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলছে

77

যুগবার্ত ডেস্কঃ বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড বিটিসিএল (সাবেক বিটিটিভি)-এর অস্থায়ী চাকরিরত ১৮৫৭ জন মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে টেলিযোগাযোগ ভবনের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির আজ (১৪ মার্চ ২০১৬) দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত। মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারী ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ২৭ জানুয়ারি টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী (মাননীয় প্রধনামন্ত্রী) বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি পালন করে। ঐদিন স্মারকলিপি গ্রহণ করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ (মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে) মাননীয় প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম দাবি পূরণে এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে আশ্বাসের প্রেক্ষিতে নেতৃবৃন্দ আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের দাবি পূরণ না হওয়ায় মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে আজ নেতৃবৃন্দ বলেন, অতি দুঃখের সাথে আমরা লক্ষ্য করছি প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের দেড় মাসের উপরে অতিবাহিত হলেও আমাদের দাবি পূরণে ন্যূনতম পদক্ষেপও গহণ করা হয়নি। যার ফলে হতাশ হয়ে আমরা শ্রমিক-কর্মচারীরা আবারো লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি। অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা অনেক আশা নিয়ে মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আন্দোলনের কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়ে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ বা মন্ত্রণালয় কোনো রকমের উদ্যোগ গ্রহণ না করায় আমরা অসহায় স্থায়ী নিয়োগ বঞ্চিত শ্রমিক-কর্মচারীরা আবারো আন্দোলনে আসতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের অসহায় শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অবস্থান কর্মসূচিতে বিটিসিএল মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা ১৩ মার্চ থেকে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করেছি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব। যতক্ষণ পর্যন্ত বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ অথবা ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাব। কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন তুহিনের সভাপতিত্বে, অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল হালিম, ফয়সাল আলম ও ডিডিআর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খোকন ভূঁইয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, মাস্টাররোলে শ্রমিক-কর্মচারীরা প্রায় ১৮ থেকে ২০ বছর যাবত স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন কর্মসূচি পালনকালে বিটিসিএল-এর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করলেও এই পর্যন্ত তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেননি। যার কারণে আমরা মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী নিয়োগ থেকে বঞ্চিত। ফলে আমাদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়। মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারী নেতৃবৃন্দের সাথে বিটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রশাসনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ১৮৫৭ জন মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারীকে এক সপ্তাহের মধ্যে অর্গানোগ্রাম স্থায়ী নিয়োগের আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি বিধায় আমরা ধারাবাহিক আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।
বক্তারা বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না। বক্তারা আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও তাদের চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় কর্মচারীরা শঙ্কিত ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে বিটিসিএল-এর ভূমিকা অপরিসীম। বিটিসিএল এর রাজস্ব আয়ে যাদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি তারাই আজ সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত এবং অবহেলিত। আমাদেরকে বঞ্চিত ও অবহেলিত করে মানুষের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় কোম্পানির অস্থায়ী/মাস্টাররোল কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ করা হয়েছে। বিটিসিএল-এর মাস্টাররোল কর্মচারীরা দীর্ঘ ১৮ থেকে ১৯ বছর গুরুত্বপূর্ণ কাজে জড়িত থাকার পরেও স্থায়ী নিয়োগ না হওয়ায় এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়িত না করায় আজ আমরা আন্দেলন করছি।