চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে বৃহৎ প্রকল্পের অনুমোদন

58

যুগবার্তা ডেস্কঃ চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত। এটি দেশের ২য় বৃহত্তম মেট্রোপলিটন শহর। দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা, বিদেশী বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, শহরের যানজট হ্রাস করা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য চট্টগ্রাম শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরী। অল্প বৃষ্টিতেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশসহ অধিকাংশ রাস্তাঘাট হাটু হতে কোমড় পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়া, জোয়ারের সময় শহরের নিম্নাঞ্চল নিয়মিত জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এই সমস্যা হতে শহরকে রক্ষা করা এবং ভবিষ্যতে শহর সম্প্রসারণের বিষয় বিবেচনা করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রকল্প ব্যয় ৫৬১৬.৫০ কোটি টাকা। চট্টগ্রামের খালসমূহ পরিকল্পিত পুন:খনন, সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ; গুরুত্বপূর্ণ খালসমূহের পাড়ে রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও খালসমূহ পরিস্কার করার স্থায়ী ব্যবস্থাকরণ; খালের সাথে সংযোগকারী পাকা ড্রেনসমূহ সংস্কার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিস্কাশনের ব্যবস্থা করাই হচ্ছে এ প্রকল্পের মুল উদ্দেশ্য বলে জানান মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তিনি আরো জানান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পটির অধিক কার্যকরিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থায় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে প্রকল্পটির সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে একটি সুদূরপ্রসারী অধিকতর ফলপ্রসু প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদান করেন।
অন্যদিকে ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে এক্সপোর্ট লিড গ্রোথের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস। এ লক্ষ অর্জনে রপ্তানি বহুমুখীকরণকে কৌশল হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ রপ্তানি নীতিতে রপ্তানীবহুমুখীকরণের লক্ষ্যে পণ্য ও মার্কেট বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা আমাদের রপ্তানি বাজারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই আমাদের রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যে সব সমস্যা রয়েছে তা দূরীকরণের লক্ষ্যে “এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস” প্রকল্পটি প্রনয়ন করা হয়েছে। এ প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো ৩টি সেক্টর যথা: Leather & leather goods and footwear sector, Light Engineering (including eletronics and machinery) sector I Plastics sector এর পণ্য রপ্তানি বাজারে প্রবেশ ও রপ্তানি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির জন্য যেসব সমস্যা রয়েছে তা দূর করা।
আজকের একনেক সভায় অনুমোদিত অনান্য প্রকল্পগুলো হলো –
আগারগাঁওস্থ শেরে বাংলা নগরে পর্যটন ভবন নির্মাণ প্রকল্প- পর্যটন বর্তমান বিশ্বে দ্রুত বর্ধনশীল এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক কার্যক্রম। পর্যটন শিল্প শুধু একটি শিল্প নয় বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টির এবং দারিদ্র নিরসনের অন্যতম মাধ্যম। পর্যটন শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। এ দেশের স্বল্প ভৌগোলিক আয়তনে অনেক বেশি পর্যটন আর্কষণ রয়েছে ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটকগণ বাংলাদেশের পর্যটনে আকৃষ্ট হচ্ছে। প্রধান কার্যালয় ভবন না থাকায় বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্ম সম্পাদনে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সেজন্য ঢাকার শেরে বাংলা নগরে প্রশাসনিক এলাকায় বিপিসি এর প্রধান কার্যালয় নির্মাণের জন্য সরকার ২০ কাঠা জায়গায় বরাদ্দ প্রদান করেছেন। উক্ত স্থানে কার্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য আলোচ্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

সৌর শক্তি ও পানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি (পাইলট প্রকল্প) প্রকল্প- কৃষি কাজে এখনও প্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার হওয়ায় একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বাড়ছে অন্যদিকে দেশের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ ভূ-গর্ভস্থ পানি অপচয় হচ্ছে। সেচের পানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তিসমূহ কৃষকের দোঁড়গোড়ায় পৌছে দেওয়া এখন সময়ের দাবী। সেচ কাজে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের কলাকৌশল সম্পর্কে কৃষকদের অবগত এবং ব্যবহারে উৎসাহিত করা আবশ্যক। এ প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো কৃষি কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারে উৎসাহিত করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা এবং সেচ খরচ কমানো; সেচ কাজে সৌরশক্তি ব্যবহার করে জ্বালানী তেল/বিদ্যুৎ সাশ্রয়; আধুনিক পানি ব্যবস্থাপন প্রযুক্তি (ড্রিপ, বারিড পাইপ ইত্যাদি) এর মাধ্যমে সেচ দক্ষতা উন্নয়ন করে কম খরচে অধিক ফসল উৎপাদন।

মহেশখালী পাওয়ার হাব এর ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প- দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিদ্যুৎ অন্যতম চালিকা শক্তি। এ জন্য ২০২১ সালের মধ্যে সকলের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার স্বল্প, মাধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪০০০ মে.ও. ও ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০,০০০ মে. ও. বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। উক্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৫,০০০ মেগাওয়াট এর উপর, যা বৎসরে ১০% করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যুতের উত্তরোত্তর চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় ১৩,৫৬০ মে.ও. বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি পাওয়ার হাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উক্ত পাওয়ার হাবের জন্য ৫৫৮০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহনের ক্ষেত্রে যৌক্তিক মূল্য পরিশোধ এবং ক্ষতিগ্রহস্থদের এ প্রকল্পে কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদানের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।

বুধবার একনেকের অন্যন্য প্রকল্পগুলো হলো- ফেরী ও পন্টুন নির্মাণ/পুনর্বাসন (২য় পর্যায়)” প্রকল্প। রাজাপুর-কাঁঠালিয়া-আমুয়া-বামনা-পাথরঘাটা মহাসড়ক (জেড-৮৭০৮) উন্নয়ন প্রকল্প (ঝালকাঠি অংশ) প্রকল্প। কেরানীহাট-সাতকানিয়া-গুনাগরী জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প (জেড-১০১৯) প্রকল্প। পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প-২য় পর্যায় (১ম সংশোধিত)” প্রকল্প। জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলাধীন বেলগাছা ইউনিয়নের কুলকান্দি ও গুঠাইল হার্ডপয়েন্টের মধ্যবর্তী যমুনা নদীর বাম তীর রক্ষা প্রকল্প। এবং জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলাধীন যমুনা নদীর বামতীর সংরক্ষণের মাধ্যমে ভূয়াপুর-তারাকান্দি সড়ক রক্ষা প্রকল্প।

          আজকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ৩য় একনেক সভায় মোট ৩ হাজার ১৭১ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় মোট নতুন ১০টি এবং সংশোধিত ১টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পের মোট মোট ব্যয় ৯ হাজার ৭৬১ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে জিওবি ৮ হাজার ২৬৭ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল ৭০৩ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৭৯০ কোটি টাকা।
          আজকের একনেক সভায় মন্ত্রীবর্গসহ উবর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল একনেক শেষে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।