ঘোষিত মজুরি পুনর্বিবেচনা করে ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ কর

যুগবার্তা ডেস্কঃ ঘোষিত মজুরি পুনর্বিবেচনা করে ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাল পতাকা মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উপদেষ্টা কমরেড মনজুরুল আহসান খান সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, এদেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক ও সংকটকালীন সময়ে শ্রমিকরা সাহসী, অগ্রগণ্য ভ‚মিকা রেখেছে। সেই শ্রমিকের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে, আশুলিয়া এলাকায় মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ করে, উত্তরায় শ্রমিকের অফিসে হামলা চালিয়ে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন তার পরিণতি ভালো হবে না। তিনি সরকারকে তার ˆস্বরতান্ত্রিক আচরণ পরিহার করে গার্মেন্ট শ্রমিকদের প্রাণের দাবি নিম্নতম মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা মেনে নেয়ার আহবান জানান।
তিনি বলেন, ৫০ লক্ষ গার্মেন্ট শ্রমিককে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ে নামতে হবে। তিনি গার্মেন্ট সেক্টরের ও অন্যান্য সেক্টরের সকল শ্রমিক সংগঠনের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের ১৬ হাজার টাকা মজুরির দাবি বাস্তবায়ন, শ্রমিক স্বার্থবিরোধী শ্রমআইন বাতিল, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত এবং শ্রমিকের ওপর জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সম্মিলিতভাবে ধর্মঘটের প্রস্তুতি নিতে হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে সিপিবি সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ভোটের আগে মালিকদের খুশি করতে সরকার নিম্নতম মজুরি নিয়ে যে যেনতেন ঘোষণা দিয়েছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষমতায় থাকার জন্য যেহেতু সরকারকে জনগণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না তাই তারা গুটিকয়েক মালিককে খুশি রাখার পন্থা অবলম্বন করেছে। শ্রমিকরাও সরকারের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের উচিৎ জবাব দেবে। তিনি শ্রমিকদের ১৬ হাজার টাকা দাবির আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করে বলেন, বাজার পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটেছে তাতে আরো বেশি মজুরি দাবি করার বাস্ববতা ˆতরি হয়েছে। তিনি সরকারকে অবিলম্বে ঘোষিত মজুরি পুনর্বিবেচনা করে রাষ্ট্রায়ত্ব খাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি ঘোষণার দাবি জানান।
শ্রমিকনেতা অ্যাড. মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে ও ইকবাল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমিন, সহ-সভাপতি ইদ্রিস আলী, শ্রমিকনেতা সাদেকুর রহমান শামীম, আকলিমা আক্তার ডলি, দিলীপ কুমার নাথ, সাইফুল্লাহ আল মামুন, জয়নাল আবেদীন, দুলাল সাহা, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন ও দর কষাকষি বিষয়ক সম্পাদক শ্রমিকনেতা মো. মছিউদদৌলা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ব খাতের শ্রমিকদের নিমśতম মোট মজুরি প্রায় ১৮ হাজার টাকা ঘোষিত হয়েছে। সেখানে গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি অর্ধেকেরও কম, দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় করা শ্রমিকরা এই চরম ˆবষম্য কখনই মেনে নেবে না।
বর্তমান বাজারে ৮ হাজার টাকা দিয়ে কারো পক্ষে জীবন ধারণ করা এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। এমনকি ১৬ হাজার টাকা দিয়েও ৪/৫ জনের একটি পরিবারের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। আমরা সবদিক বিবেচনা করে ১৬ হাজার টাকা দাবি জানিয়েছি। ফলে ১৬ হাজার টাকা না দিয়ে ৮ হাজার টাকার ঘোষণা অগ্রহণযোগ্য এবং ভোটের আগে মালিকপক্ষকে খুশি রাখতে সরকারের উপঢৌকন। নেতৃবৃন্দ গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে সমাজের সর্বস্তরের বিবেকবান মানুষকে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল কদমফুল ফোয়ারা ঘুরে পল্টন মোড়ে মুক্তিভবনের সামনে এসে শেষ হয়।