ঘুরে দাড়াচ্ছে বাংলাদেশ

যুগবার্তা ডেস্কঃ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ। ১ জুলাই সৃষ্ট অনিশ্চয়তাকে পেছনে ফেলার লড়াইয়ে হাত বাড়াচ্ছে বন্ধু রাষ্ট্রগুলো। জঙ্গিদের ঘটানো সন্ত্রাসে ভীত সন্ত্রস্ত না হয়ে এটাকে একটি বৈশ্বিক ইস্যু ধরে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় পাশে থাকতে চায় তারা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, সরকারের তড়িৎ সিদ্ধান্ত ও সন্ত্রাস বিরোধী কঠোর মনোভাবে কেটে যাচ্ছে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ।

দক্ষিণ এশিয়ায় এখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ২য় অবস্থান বাংলাদেশের। গত সপ্তাহেই প্রথমবারের মতো ৩০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভের মাইল ফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ।

যেখানে তিন মাসের আমদানি খরচ থাকলেই স্টান্ডার্ড রিজার্ভের তকমা আওড়ান অর্থনীতিবিদরা, সেখানে বাংলাদেশের বর্তমান রিজার্ভে দেশের আমদানি চলবে সাড়ে নয় মাসের।

যদিও ধীরে ধীরে বাড়ছে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির খরচ আর কমছে প্রবাসী আয়। তবে ব্যবসা বাণিজ্যের ক্রম উন্নতি আশার দিশা দেখাচ্ছে বাংলাদেশকে।

গত অর্থ বছরেই কেবল রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরে আরো ৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় বাড়তি ধরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ৩৮ বিলিয়ন ডলারে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানের সন্ত্রাসী হামলায় যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছিল, তা কাটতে শুরু করেছে। শোলাকিয়া ও কল্যাণপুরের ঘটনায় সরকারের তড়িৎ ও কঠোর সিদ্ধান্তে বিদেশিদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে। আমরা তাদের বলেছি, সরকার বিদেশিদের নিরাপত্তার সব উদ্যোগ নিয়েছে।

এরই মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত। তারা দৃঢ়তার সঙ্গে বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশে থেকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় নিজেদের অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী জাপান।

এরই মধ্যে পদ্মা সেতু হয়ে বরিশাল (ঢাকা-বরিশাল রেললাইন) রেল লিংক ও পায়রা বন্দরে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। গত ৪ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বৈঠককালে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক।

তিনি জানান, পদ্মাসেতু থেকে বরিশাল পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ ও পায়রা বন্দরে বিনিয়োগের জন্য ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা মুখিয়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা এটি একটি গ্লোবাল ইস্যু। তাই ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে ভ্রমণ সম্পর্কিত কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি তার দেশ। তাদের কেবল পরামর্শ নিয়ে নিরাপদে চলাচল করার কথা বলা হয়েছে।

একই দিনে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সঙ্গে দেখা করে ব্লেক জানান, বাংলাদেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা অনেক বেড়েছে। প্যাসেঞ্জার কেরিয়ার ও কার্গো কেরিয়ার এরই মধ্যে উন্নতি করেছে। তবে, আরো উন্নতি করার সুযোগ আছে।

বৈঠক শেষে রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের জানান, এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের দিল্লীস্থ কর্মকর্তা হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দর পরিদর্শন করে ইতিবাচক রিপোর্ট দিয়েছেন। জার্মানির বিমান সংস্থার কর্মকর্তাও ইতিবাচক রিপোর্ট দিয়েছেন। অচিরেই ইউকে ও লন্ডনে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালু হবে।

এদিকে জঙ্গি ও সন্ত্রাস ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত লিওনি কুয়েলে নায়ারে।
গত বুধবার (০৩ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রশংসা করেন।

ডাচ রাষ্ট্রদূত এ সময় বলেন, বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা যাতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে তার দেশ।

এরই প্রমাণ স্বরূপ সেপ্টেম্বরে ঢাকায় ‘সাসটেইনেবল সোর্সিং ইন দি গার্মেন্টস সেক্টর ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি আর্ন্তজাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে নেদারল্যান্ড। সেখানে দেশটির সংশ্লিষ্টমন্ত্রী ছাড়াও সারা বিশ্বের গার্মেন্ট উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন।

তিনি বলেন, নেদারল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) ভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশে গার্মেন্টস সেক্টরের উন্নয়নে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় কারিগরি সহায়তা ও বিপণনের উন্নয়ন বিষয়ে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের আর এক মেগা প্রজেক্ট বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের ফিজিবিলিটি টেস্টের কাজ দেওয়া হয়েছে জাপানি সংস্থা নিপ্পন কোই লিমিটেডকে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বুঝতে পেরেছে সন্ত্রাস দমনে সরকার আন্তরিক এবং কঠোর। তাই তারা বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে। এমনকি ইতালির যে ব্যবসায়ী গুলশানে নিহত হয়েছেন, তার পরিবারও ঢাকার কারখানা ও অফিস চালু রাখার অঙ্গীকার করেছেন। বাংলানিউজ২৪.কম