গ্রামের পর গ্রাম ঘুড়লেও দেখা মিলছেনা শাপলা

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: মাত্র কয়েক বছর আগেও পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিভিন্ন এলাকার খাল-বিলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে হাজার হাজর শাপলা ফুল। এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত সকলের। এখন গ্রামের পর গ্রাম ঘুড়লেও এর দেখা মিলছেনা। তবে পরিবেশবিধরা বলেছেন জমিতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করায় ও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে শাপলা ক্রমশই কমে যচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাল,বিল ও জলাশয়ে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মাতো এগুলো। শাপলার বেশ কয়েকটি জাত রয়েছে। এরমধ্যে লাল ও সাদা রংয়ের শাপলার পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ থাকায় খাদ্য উপকরণ হিসেবে দেশব্যাপী প্রচুর চাহিদা রয়েছে। একসময় এলাকার মানুষ এর ফল দিয়ে সুস্বাদু খৈ ভাজতো। তবে লাল রংয়ের শাপলা ঔষধি কাজে ব্যবহৃত হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকায় চুলকানী ও রক্ত আমাশয়ের জন্য বেশ উপকারী বলে অনেকেই জানিয়েছেন।
এলাকার বয়স্করা জানান, সাদা ফুল বিশিষ্ট শাপলা সবজি হিসেবে ও লাল রঙের শাপলা ওষুধিগুণে সমৃদ্ধ বলে পরিচিতি রয়েছে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে মানুষের প্রয়োজনে আবাদি জমি ভরাট করে বাড়ি, পুকুর, মাছের ঘের বানানোর ফলে প্রাকৃতিকভাবে শাপলা জন্মানোর জায়গাও কমে গেছে।
স্থানীয় শিক্ষক মুজিবুর রহমান জানান, বেশ কয়েক রংয়ের শাপলা রয়েছে। এর মধ্যে লাল ও সাদা ফুল বিশিষ্ট শাপলা সবজি হিসেবে ভোজন রসিকরা খায়। বর্তমানে খাল-বিল ও জলাশয় ভরাটের কারণে শাপলা কমে গেছে।
বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ওয়াল্ড কনসার্ন কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস জানান, জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষাবাদের কারণে অধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, খাল-বিল ও জলাশয় ভরাটের কারণে শাপলা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার এ আর সাইফুল্লাহ সংবাদিকদের জানান, খাল-বিল ও আবদ্ধ জলাশয়গুলো দিন দিন শুকিয়ে যাওয়াসহ পানিতে লবনাক্ততার পরিমান বৃদ্ধির কারনে শাপলার বংশ বিস্তার দিন দিন কমে যাচ্ছে।