গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালালেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক

মাহবুবুল আলম, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:-
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের নন্দলালপুর এস,এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর আল আসাদ (সবুর মাষ্টার) এর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের দপ্তরীকে মারধর ও তালা ভেঙে বিদ্যালয়ে প্রবেশের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে আজ বুধবার উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের নন্দলালপুর এস,এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিনের ন্যায় আজও বিদ্যালয়ের পাঠদান শুরু হওয়ার আগে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করে আসছিল দপ্তরি আব্দুল হান্নান। এ সময় যৌণ হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর আল আসাদ এর বিদ্যালয়ে আসার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা স্কুলের সবকটি রুমে তালা লাগিয়ে দেয়। যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর আল আসাদ (সবুর মাষ্টার) তার পেটুয়া ও সন্ত্রাসী বাহিনী (সজিব, শরিফ, হেলাল, জালাল, ফরিদ, মতি ) এদেরকে দিয়ে তালা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। পরে নির্দেশ পেয়ে সবুর মাষ্টারের সন্ত্রাসী বাহিনী তালা ভেঙে প্রবেশ করার সময় উক্ত বিদ্যালয়ের দপ্তরি আব্দুল হান্নান বাধা দিলে সবুর মাষ্টারের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দপ্তরি আব্দুল হান্নান’কে বেধড়ক মারপিট করে আহত করে। দপ্তরিকে মারপিটের ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পরলে বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবকসহ ম্যানেজিং কমেটির সদস্যগণ উপস্থিত হলে সবুর মাষ্টারের সন্ত্রাসী বাহিনী বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিদ্যালয়ে ঢুকতে না দিয়ে তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ এলাবাসী অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সবুর মাষ্টারকে ধাওয়া করলে তিনি দ্রুত পালিয়ে যান।
বিদ্যালয়ে তালা দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলে, চরিত্রহীন বাজে শিক্ষক’কে আমাদের বিদ্যালয়ে ঢুকতে দিবোনা। আমরা তাকে অত্র বিদ্যালয়ে আর কোনদিন দেখতে চাইনা।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত সবুর মাষ্টার কর্তৃক এর আগেও অনেক ছাত্রী যৌন হয়রানি স্বীকার হয়েছে। যা বিভিন্ন পত্রিকা সংবাদ প্রকাশ পায়। তার বিরুদ্ধে হাজারও অভিযোগ থাকা স্বত্ত্বেও অদৃশ্য কারণে প্রতিবারই পার পেয়ে যান তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুস সবুর আল আসাদ (সবুর মাষ্টার) বলেন, আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিসারের অনুমতিক্রমেই এখানে এসেছি। এলাকার লোকজনের সাথে কথা হয়েছে দপ্তরি আব্দুল হান্নানের। আর তালা ভেঙে ফেলা ও মারধরের বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফয়জুন্নাহার বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত থাকার কারণে আব্দুস সবুর আল আসাদ (সবুর মাষ্টার) গত মাসের ০৭ তারিখ থেকে আমার বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত আছেন। সবুর মাষ্টারের সাথে থাকা লোকজন আমার বিদ্যালয়ের দপ্তরি আব্দুল হান্নান’কে বারবার মারতে এসেছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফজলুল হক জানান, আব্দুস সবুর আল আসাদ (সবুর মাষ্টার) এর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ ছিল, আমি নিজেই তদন্ত করি এবং ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে বিভাগীয় উপ-পরিচালক বরাবর প্রেরণ করি। আজকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সবুর মাষ্টারকে কোন লিখিত বা মৌখিক অনুমতি দেয়া হয়নাই।