গ্যাসের দাম বৃদ্ধির তৎপরতা বন্ধ না করলে হরতাল

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, গ্যাসের দাম যেখানে কমানো উচিত, সরকার সেখানে দাম বাড়ানোর চক্রান্ত করছে। সরকার কোনো যুক্তি দিতে পারছে না। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, জনগণ তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে সরকারের এই গণবিরোধী উদ্যোগ ঠেকানো হবে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির তৎপরতা বন্ধ না করলে হরতালসহ নানা কর্মসূচি দেয়া হবে।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির তৎপরতা বন্ধ এবং দাম কমানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করার দাবিতে সিপিবি ও বাসদ-এর উদ্যোগে আজ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)’র সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কমরেড সেলিম এসব কথা বলেন। কমরেড সেলিমের সভাপতির অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ-সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লাবলু, বাসদ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী রুহুল আমিন, সাদেকুর রহমান শামীম, বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন প্রমুখ। সমাবেশটি পরিচালনা করেন বাসদ নেতা জুলফিকার আলী।
বিক্ষোভ সমাবেশে কমরেড সেলিম আরো বলেন, সরকার গরিব, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না, শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে না। সরকার ধনিকশ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র মন্ত্রী-এমপিদের গাড়ী আমদানির পেছনে সরকার কোটি কোটি খরচ করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাসের দাম কমানো প্রয়োজন। আমরা গ্যাসের দাম কমানোর জন্য অবিলম্বে গণশুনানী করার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় সিপিবি-বাসদ জোট জনগণকে সাথে নিয়ে গণশুনানী আয়োজন করবে।
কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, গত বছর গ্যাসের ২৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘোষণা করা হলেও কার্যত দাম আরও বেশি বাড়ানো হয়েছিল। এবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতাই নেই। গণশুনানীর নামে গণপ্রতারণা করা হচ্ছে। গ্যাসের দাম বাড়ানোর সাথে সাথে পানি, বিদ্যুত, দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়বে। গরিব মানুষের খরচ বাড়বে, কিন্তু আয় বাড়বে না। লুটপাট, দুর্নীতি, অপচয়ের দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ভুল নীতি ও পদক্ষেপের দায় জনগণ কেন নেবে?
কমরেড খালেকুজ্জামান আরো বলেন, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স ছাড়া গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। মাগুরছড়া, টেংরাটিলায় হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট করা হয়েছে। সরকার ক্ষতিপূরণ আদায় করেনি। সরকার জাতীয় সক্ষমতা না বাড়িয়ে, কমিশনের জন্য বিদেশ নির্ভরতা বাড়াচ্ছে।