গৌরনদীতে মরা খালে যৌবন ॥ চাষিরা আনন্দে আত্মহারা

কল্যাণ কুমার চন্দ,বরিশাল থেকে.
একসময় বিভিন্ন মাধ্যমে এ খাল দিয়েই গ্রামের লোকজনের যাতায়াতের পাশাপাশি খালের পানিতেই চারটি গ্রামের কয়েক হাজার একর জমির চাষাবাদ করা হতো। এ খালের মাছের ওপরেই এলাকাবাসীর চাহিদা পূরণ হতো। বিট্রিশ আমলের এ সুবিশাল খালটি দীর্ঘদিনেও পুনঃখনন না হওয়ায় পলি জমে খালটি সম্পূর্ণ রূপে মরা খালে পরিনত হয়।
ফলে বছরের পর বছর ধরে চারটি গ্রামের প্রায় ছয় হাজার কৃষক জলাবদ্ধতা ও প্রকৃতিক বৈরি আচরনের কারনে আমন চাষ করতে পারেননি। এছাড়াও পানির অভাবে সময়মতো বোরো ধানও চাষ করা সম্ভব হয়নি। যেকারণে খালটি বয়ে আনে চারটি গ্রামের কৃষকদের দুর্দিন। কথাগুলো বলছিলেন স্থানীয় বার্থী ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান প্যাদা। খালটির অবস্থান বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশ^বর্তী গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের কৃষিনির্ভর তাঁরাকুপি, কটকস্থল, সাউদেরখালপাড় ও বার্থী গ্রামের মধ্যকার। খালটি পূনঃখননের জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধেদের কাছে ধর্ণা দিয়েও হয়েছেন ব্যর্থ। অবশেষে সরকারের মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রলাণয়ের অর্থায়নে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়ে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পে সাউদের খালের ৪.৪২ হেক্টরের মরাখাল পুনঃখনন করে মাছের পোনা অবমুক্ত করার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ভূমিহীন সমিতির মাধ্যমে সরকারের ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক স্ক্রেভেটারের সাহায্যে ২.৯৫ হেক্টরের জলায়তন ও ৪৪ হাজার ৯৯১ ঘণমিটার মাটি খনন করে পুরো ৪.৪২ হেক্টরের মরাখাল পুনঃখনন করা হয়। ফলে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানেই দীর্ঘদিনের মরা খালে ফিরে এসেছে পূর্ণ যৌবন। জনগুরুত্বপূর্ণ সাউদেরখালে এখন টলমল করছে স্বচ্ছ পানি। আর এ কারণেই হাসি ফুটেছে ওই চার গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার বাসিন্দাদের মধ্যে। চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষকেরা এখন আগামীর উজ্জ্বল স্বপ্ন দেখছেন।
স্থানীয় কৃষক ও ইউপি সদস্য বজলুর রহমান, খাইরুল আহসান খোকন, আওয়ামীলীগ নেতা দেলোয়ার বেগসহ একাধিক কৃষক বলেন, যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাল বিল ভরাট করে দখল বাণিজ্য চলছে, ঠিক তার উল্টো ঘটনা ঘটেছে আমাদের বার্থী ইউনিয়নে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে মরা খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সাউদেরখাল ভূমিহীন সমিতির দলনেতা হাফিজুর রহমান ও জহিরুল হক চৌধুরী চার গ্রামের কৃষকদের সমৃদ্ধি বয়ে আনার সুযোগ করে দিয়েছেন। সোমবার সকালে খননকৃত খাল এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান প্যাদা বলেন, মানচিত্রে জনগুরুত্বপূর্ণ এ খালটির পরিসর ছিল আরও বিস্তৃত কিন্তু দীর্ঘদিনেও খালটির সংস্কার না হওয়ায় খালটি মরা খালে পরিণত হয়। যে কারণে বছরের পর বছর কৃষকরা জলাবদ্ধতায় আমন চাষ করতে পারেনি, আবার পানির অভাবে সময়মতো বোরো ধানও চাষ করতে পারেননি। তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে মরা খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে এখন থেকে ওই চার গ্রামের চাষিরা জমি থেকে পানি নিস্কাশন করে আমন ধান চাষাবাদ ও সময়মতো বোরো চাষাবাদও করতে পারবেন। এছাড়া এ খালে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর মাছে ভাতে বাঙালীর হারিয়ে যাওয়া প্রবাদ আবার ওই চারটি গ্রামের জন্য বাস্তবে রূপ নিবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।