গৌরনদীতে জলাশয় সংস্কারের নামে মৎস্য উৎপাদন প্রকল্পে হরিলুট

বরিশাল অফিস ॥
খাল পুনঃখনন ও জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে সরকারের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পে নামেমাত্র কাজ সম্পাদন করে পুরো টাকা উত্তোলন করে লাপাত্তা হয়েছেন চুক্তিবদ্ধ কথিত সমিতির দুই নেতা। গত ছয় মাসে ওই প্রকল্পে একটি মাছের পোনাও অবমুক্ত করা হয়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশ্ববর্তী গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের সাউদেরখালের।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রলাণয়ের অধীনে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পে সাউদের খালের ৪.৪২ হেক্টর পুনঃখননের পর মাছের পোনা অবমুক্ত করার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে জলায়তন ধরা হয় ২.৯৫ হেক্টর ও মোট মাটির কাজের পরিমান ধরা হয় ৪৪ হাজার ৯৯১ ঘণমিটার। সূত্রে আরও জানা গেছে, সাউদেরখালপাড় ভূমিহীন সমিতির সুফলভোগী ২৭জন পুরুষ ও নয়জন নারী সদস্যর নাম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ প্রতারনার মাধ্যমে ওই প্রকল্পের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় কথিত সমিতির দলনেতা ওই এলাকার বাসিন্দা (দীর্ঘদিন থেকে ঢাকায় বসবাসরত) মোঃ হাফিজুর রহমান ও জহিরুল হক চৌধুরী।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ভূমিহীন সমিতির নামে ওই এলাকায় কোন সমিতি নেই। সূত্রে আরও জানা গেছে, স্থানীয় জনপ্রতিধি কিংবা উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কোন কর্মকর্তাদের না জানিয়েই গত ৫ মে তড়িঘড়ি করে মেশিনের সাহায্যে খালের দুই পাড়ে বসবাসরত জনসাধারনের বসত ঘর, গাছপালা, পানের বরজ বিনষ্ট করে নামেমাত্র খাল খনন করা হয়। এছাড়াও খাল পারাপারের জন্য আকন বাড়ির সামনের সরকারি একমাত্র ব্রিজটির গোড়ার মাটি মেশিন দিয়ে সরিয়ে ফেলায় জনগুরুত্বপূর্ণ ওই ব্রিজটি এখন মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, ৫মে থেকে শুরু করে ৩১মের মধ্যে খাল পুঃনখনন করার কথা থাকলেও তড়িঘড়ি করে মাত্র সাতদিনের মধ্যেই নামেমাত্র খাল খনন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, গত ছয় মাসে একটি মাছের পোনাও ওই খালে অবমুক্ত করা হয়নি। এমনকি কথিত সমিতির ওই দুই নেতাকেও আর এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান প্যাদা আক্ষেপ করে বলেন, আমার এলাকায় এতোবড় উন্নয়ন কাজ হয়েছে অথচ আমি কিছুই জানিনা। তিনি আরও বলেন, ঢাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান ও জহিরুল হক চৌধুরী ভূয়া সমিতির নাম ব্যবহার করে নামেমাত্র খাল খননের নামে সরকারের পুরো টাকা আত্মসাত করে স্থানীয়দের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছেন। তিনি (ইউপি চেয়ারম্যান) প্রতারনার মাধ্যমে সরকারী টাকা আত্মসাতের ঘটনার সঠিক তদন্ত করে প্রতারক হাফিজুর রহমান ও জহিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের সংশিøষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দুদকের হস্তক্ষপ কামনা করেছেন।