গোদাগাড়ীর জঙ্গি আস্তানায় হতাহতের ঘটনায় মামলা

31

রাজশাহী অফিসঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বেনীপুরের জঙ্গি আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় হতাহতের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গোদাগাড়ী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে। গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীকে হত্যা, পুলিশ সদস্যদের হত্যার চেষ্টা, পাঁচ জঙ্গি নিহত এবং জঙ্গি আস্তানা থেকে অস্ত্র, বিস্ফোরকদ্রব্য ও জিহাদী বই উদ্ধারের ঘটনায় থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটিই মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় সব ঘটনা উল্লেখ আছে। তবে মামলায় কাকে আসামি করা হয়েছে তা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানান ওসি।

বৃহস্পতিবার ভোররাতে বেনীপুর গ্রামের ওই জঙ্গি আস্তানাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। এরপর ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তারা সাড়া না দেওয়ায় পুলিশ ফায়ার সার্ভিসকে ডেকে পানি ছিটিয়ে বাড়ির পেছনের মাটির দেয়ালটি ধসিয়ে ফেলতে শুরু করে। এ সময় জঙ্গিরা বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী নিহত হন। আর আহত হন চার পুলিশ সদস্য। এ ঘটনার পর দুই নারীসহ পাঁচ জঙ্গি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মহুতি দেয়। নিহত জঙ্গিরা হলো- বাড়ির মালিক সাজ্জাদ হোসেন (৫০), তার স্ত্রী বেলী আক্তার (৪৫), তাদের ছেলে আল-আমিন (২০), মেয়ে কারিমা খাতুন (১৭) ও বহিরাগত জঙ্গি আশরাফুল ইসলাম (২৩)।

এরপর নিহত জঙ্গি সাজ্জাদ আলীর বড় মেয়ে সুমাইয়া খাতুন তার দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরদিন জঙ্গি আস্তানায় চালানো হয় অপারেশন ‘সান ডেভিল’। এ সময় উদ্ধার হয় অস্ত্র ও বোমা। এ দিন পাঁচ জঙ্গির লাশও উদ্ধার করা হয়।

তবে স্বজনরা নিহত জঙ্গিদের লাশ নেননি। এ কারণে ময়নাতদন্তের পর কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে লাশগুলো বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।

গোদাগাড়ী থানার ওসি জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণের পর থেকে সুমাইয়া পুলিশের হেফাজতে আছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তাকে নিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হতে পারে।

সুমাইয়ার ৮ বছরের ছেলে জুবায়েরকে শনিবার তার চাচা মিনারুল ইসলামের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে তিন মাস বয়সী মেয়ে আফিয়া তার মায়ের সঙ্গেই থাকবে বলে জানান ওসি হিপজুর আলম মুন্সি।