গোখাদ্য কিনতে না পেরে গরু বিক্রি করছেন অনেকে

ডেস্ক রিপোর্ট: বিভিন্ন স্থানে গোখাদ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। ফলে খামারি ও পশু পালনকারী গৃহস্থরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ভুসি-ফিডসহ আনুষঙ্গিক পশুখাদ্য কিনতে না পেরে অনেকেই গরু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

রংপুর প্রতিনিধি জানান, গত ছয় মাসে গরুর খাবারের দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুসি-ফিডসহ আনুষঙ্গিক পশুখাদ্য কিনতে না পেরে অনেকেই গরু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। লোকসানের আশঙ্কা থাকলেও আসন্ন কোরবানি ঈদে দাম পাওয়ার আশায় অনেক কষ্টে কেউ আবার ধরে আছেন গরুর খামার।

রংপুর জেলা ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলায় ছোট-বড় ও বাড়িতে মিলে প্রায় ১০ হাজার খামারি রয়েছেন।

রংপুর নগরীর বুড়িরহাট এলাকার খামারি আরিফ হোসেন জানান, ছয়-সাত মাস আগেও তার বাড়িতে চারটি ষাঁড় ও তিনটি গাভি ছিল। পশু খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে দুটি ষাঁড় বিক্রি করেছেন। কোরবানি ঈদে গরু বিক্রির আশায় রয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে ঈদের পর নতুন করে আর গরু কিনে খামারের চিন্তা করবেন না।

রংপুর সিটি বাজারের গোখাদ্য বিক্রেতা রাজু আহমেদ জানান, প্রতিটি খাদ্যের দাম প্রায় দিগুণ হয়েছে। মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তার দোকানে বিক্রিও কমে গেছে।

রংপুর জেলা ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লতিফুর রহমান মিলন বলেন, যে হারে গোখাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, এতে গরু পালন করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশু খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ আনুষঙ্গিক খরচ বেশি হওয়ায় গরু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল হক বলেন, গোখাদ্য হিসেবে খামারিদের দানাদার খাবারের ওপর চাপ কমিয়ে ঘাস উৎপাদনের দিকে মনোযোগ বাড়াতে হবে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, খামারি সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যের দাম না কমলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে তাদের। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে বিপুলসংখ্যক গরু, ছাগল ও মহিষ মোটাতাজা করছেন খামারিরা। কিন্তু দিন যতই এগিয়ে আসছে গোখাদ্যের দাম ততই বেড়ে চলেছে। এতে খামারিদের খরচ বাড়ছে।

সদর উপজেলার খামারি শহিদুল ইসলাম জানান, এ বছর আমার খামারে ২৫টি ষাঁড় রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে গরুগুলোকে মোটাতাজাকরণ করছি। তবে গরুর খাদ্যের দাম এত বেশি হওয়ার কারণে খরচ বেড়েছে।

সুনামগঞ্জে বিশুদ্ধ পানির অভাবসুনামগঞ্জে বিশুদ্ধ পানির অভাব
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার জেলায় পশু খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধির কথা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি নির্দেশনা না থাকায় খামারিদের সহযোগিতা করা সম্ভব হচ্ছে না

মনিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে উঠতি বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। খেতে কাটাধানের ওপর ভারী বৃষ্টি হওয়ায় ধানে চারা গজিয়ে গেছে। তার ওপর পানিবদ্ধ অধিকাংশ খেতের বিচালী পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এলাকায় এবার গোখাদ্যের চরম সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মাঝিয়ালী গ্রামের চাষি নিরঞ্জন দাস জানান, পানিবদ্ধ থাকায় কাটাধানে চারা গজানো ছাড়াও বিচালী পচে গেছে। ফলে এলাকায় এবার গোখাদ্যেরও চরম সংকটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, ঝড়বৃষ্টিতে বিশেষ করে খেতের কাটা ধানের বেশ ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলার ৮০ শতাংশ ধান খেত থেকে ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে।-ইত্তেফাক