গুলশানে জঙ্গিদের হাতে নিহত ৯ ইতালীয়, ৭ জাপানি, ৩ বাংলাদেশি ও ১ ভারতীয়

52

যুগবার্তা ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকার কূটনৈতিকপাড়া গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে জঙ্গিদের হাতে নিহত ২০ জনের পরিচয় মিলেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- তিনজন বাংলাদেশি, নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতীয় নাগরিক।

শনিবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও রয়টার্সের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো জেনতিলোনি জানিয়েছেন, ‘শুক্রবার রাতের ওই হামলার পর নিহত নয়জনকে (ইতালীয়) আমরা চিহ্নিত করেছি। আরো একজন নিখোঁজ রয়েছেন, তিনি লুকিয়ে থাকতে পারেন বা আহতদের মধ্যে থাকতে পারেন…আমরা তার খোঁজ করছি,”।

এদিকে, রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নিহত ২০ জনের মধ্যে ৭ জাপানি নাগরিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সরকার।

এ ছাড়া ভারতীয় ১৯ বছরের একজন ছাত্রীও মারা গেছেন বলেও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা সরাজ এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন ।

গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারিতে জিম্মিদের মধ্যে থাকা ৩ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একজন ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের নাতি ফারাজ হোসেন, ঢাকার একটি আর্ট গ্যালারির সাবেক প্রধান ইশরাত আখন্দ ও অন্যজন ল্যাভেন্ডারের মালিকের নাতনী অনিন্দিতা কবীর।

শনিবার সকালে জিম্মিদের উদ্ধারে কমান্ডো অভিযানের পর দুপুরে আইএসপিআরের সংবাদ সম্মেলনে শুধু ২০ জন বিদেশির মৃত্যুর তথ্যই জানানো হয়।

তবে ফারাজ, অবিন্তা ও ইশরাতের পরিবার তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

লতিফুর রহমানের মেয়ে সিমিন হোসেনের দুই ছেলের মধ্যে ফারাজ সবার ছোট।

ট্রান্সকম কনজ্যুমার প্রডাক্টসের বিপণন কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ তাহনুন ইশতিয়াক রিয়াদ বলেন, “দুই ভাইয়ের মধ্যে ফারাজ ছিল ছোট। অত্যন্ত চঞ্চল ছিল ছেলেটি। ফারাজ ট্রান্সকম গ্রুপে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজও করেছিল।”

শুক্রবার রাতে নিজে গাড়ি চালিয়ে গুলশানের ওই ক্যাফেতে ফারাজ গিয়েছিলেন বলে জানান রিয়াদ।

ডেএক্সওয়াই ইন্টারন্যাশনালের মানব সম্পদ বিভাগের পরিচালক ইশরাত ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান ক্রিয়েটিভসে ছিলেন। তিনি গ্রামীণফোন ও ওয়েস্টিন হোটেলেও কাজ করেছিলেন।

অনিন্দিতা কবিরের দাদা মনজুর মোরশেদ সুপার স্টোর ল্যাভেন্ডারের মালিক।

এর আগে আইএসপিআরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাঈম আশফাক শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ২০ জিম্মির অধিকাংশকেই শুক্রবার রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।