Home জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ

গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ

21

স্টাফ রিপোটার: আজ সকাল ১১টায় বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত নিন্মতম মজুরি শ্রম আইন ১৪০ (ক) ধারা অনুসারে পুনর্নির্ধারণের দাবিতে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। স্মারকলিপি পেশের পূর্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনটির বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা কাজী রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল হোসেন, কে.এম মিন্টু, এম.এ শাহীন, জালাল হাওলাদার, সাইফুল্লাহ আল মামুন, জয়নাল আবেদীন, জাহানারা বেগম প্রমুখ।
সমাবেশে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা কাজী রুহুল আমিন বলেন, ‘গত ৭ নভেম্বর ঘোষিত নি¤œতম মজুরি সকল শ্রমিকরা প্রত্যাখ্যান করে লড়াই করছেন। যে মজুরি ঘোষণা করা হয়েছে তা শ্রম আইনের মজুরি নির্ধারণের বিধানের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী শ্রমিকের জীবন-যাপন ব্যয়, জীবন-যাপনের মান, উৎপাদন খরচ, উৎপাদনশীলতা, উৎপাদিত পণ্যের মূল্য, মুদ্রাস্ফীতি, কাজের ধরন, ঝুঁকি ও মান, ব্যবসায়িক সামর্থ দেশের এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করিয়া দেখার কথা রয়েছে। কিন্তু এই ঘোষিত মজুরিতে এসবের কোন কিছুই বিবেচনায় নেয়া হয়নি। ঘোষিত মজুরি দিয়ে কোনক্রমেই শ্রমিকরা জীবন-যাপন ব্যয় মেটাতে পারবে না ফলে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাবে এবং জাতীয় স্বার্থ খর্ব হবে। আমরা অবিলম্বে ঘোষিত মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানাই।’
শ্রমিকনেতা ইকবাল হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা না দিয়ে বরং পুলিশি শক্তি, হামলা-মামলা, গুলি করে শ্রমিক আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশি শক্তি প্রয়োগ করে ন্যায্য মজুরির আন্দোলন থেকে শ্রমিকদের পিছু হটানো যাবে না। অবিলম্বে পুলিশি নির্যাতন বন্ধ করতে হবে এবং নিহত-আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।’
শ্রমিকনেতা কে.এম মিন্টু বলেন, মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণার সাথে সাথেই বাড়ি মালিকরাও বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে, যা রোধ করা অতীব জরুরি।
সমাবেশ থেকে মোট মজুরির ৬৫% বেসিক, সকল গ্রেডে একই হারে মজুরি বৃদ্ধি, প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট, ৬ষ্ঠ ও ৭ম গ্রেড বাতিল করে ৫টি গ্রেড ঘোষণা এবং শিক্ষানবিশের বিধান বাতিলেরও দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশের পূর্বে লাল পতাকা ও বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ফেস্টুন নিয়ে একটি মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি সচিবালয়ের সামনে গেলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে।
পরিশেষে কাজী রুহুল আমিন ও কে.এম মিন্টু’র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শ্রম প্রতিমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।