গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ উদ্যোগ নিন— মেনন

109

যুগবার্তা ডেস্কঃ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী জনাব রাশেদ খান এম.পি বলেছেন ’’ যখন বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানার মালিকরা বিদেশী ক্রেতাদের চাঁপে পড়ে তখন তারা শ্রমিকদের ব্যবহার করে। কিন্তু শ্রমিকরা যখন ন্যায্য পাওনা ও অধিকারের দাবী তোলে তখন কারখানার মালিকরা শ্রমিকদের উপর নির্যাতন চালায়।’’
জনাব মেনন, যিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, শ্রম প্রতিমন্ত্রী ও বিভিন্ন শ্রম দপ্তরের কর্মকর্তাদের গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করেন।
তিনি বৃহঃবার বিশ্ব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে ৬টি গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন আয়োজিত ইউনিয়ন করতে গিয়ে ৩৬ কারখানার চাকুরী হারানো শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের প্রতিক অনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেয়ার সময় এই আহবান জানান।
আজ বেলা ১টায় জাতীয় প্রেসক্বাবের সামনে এই প্রতীক অনশন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি জনাব আমিরুল হক্ আমিন প্রতীক অনশনে সভাপতিত্ব করেন। আয়োজক অন্য শ্রমিক সংগঠনগুলো হলো : ১.জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ২.বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন ৩. জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন ৪. একতা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ৫.গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি ফেডারেশন ৬. বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন। ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার – মানবাধিকার (ঞৎধফব টহরড়হ জরমযঃং-ঐঁসধহ জরমযঃং) এই শ্লোগানে একর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচীতে আরো বক্তব্য রাখেন : শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতা ডাঃ ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ইন্ডাষ্ট্রিওল বাংলাদেশ কাউন্সিল এর নেতা বাংলাদেশ বিল্পবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি জনাব সালাউদ্দিন স্বপন, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জনাব সাব্বাহ আলী খান কলিন্স,জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মিস নুরুন নাহার, একতা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কুলুসম আক্তার, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের নেত্রী নুরুন নাহার, নরওয়েষ্ট ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন সহ প্রমুখ। কর্মসূচী পরিচালনা করেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি এম দেলোয়ার হোসেন।
জনাব রাশেদ খান মেনন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে শ্রমিকদের বঞ্জনা ও শোষণের কথা বলতে হচ্ছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গার্মেন্টস শ্রমিকদের কল্যাণে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু কারখানা মালিকদের ষড়যেন্ত্রর কারণে এসব পদক্ষেপের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্থ হয়েছে।
জনাব মেনন বলেন, শ্রম আইন ও এর বিধিমালা প্রনয়ন ও বাস্তবায়নের সময় কারখানার মালিকরা বাধা দেয়। তিনি বলেন বিজয়ের মাসে শ্রমিক শোষন ও বঞ্জনা মেনে নেয়া যায় না।
সভাপতির ভাষনে আমিরুল হক্ আমিন অভিযোগ করেন যে, কারখানায় ইউনিয়ন করার কারনে ৩৬টি গার্মেন্টস কারখানায় ইউনিয়ন নেতাদের মালিকরা চাকুরীচ্যুত করেছে। তারা এজন্য ১১টি গার্মেন্টস কারাখানা বন্ধ দিয়েছে।
জনাব আমিন অবিলম্বে চাকুরীচ্যুত শ্রমিক ও ইউনিয়ন নেতাদের চাকুরীতে পূনঃবহালের দাবী করেন।