গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া যৌক্তিক দাবি–ওয়ার্কার্স পার্টি

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি পরিবহনে শিক্ষার্থীদের ‘হাফ ভাড়ার’ দাবিকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, ৬২ ছাত্র আন্দোলনের প্রভাবে তৎকালীন স্বৈরশাসক আইউব খান পরিবহনে ছাত্রদের হাফ ভাড়া প্রবর্তন করেছিল। ৬৯’এর পর এমনকি ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্রদের এই অধিকার অব্যাহত ছিল। কোন অজানা কারণে এবং কবে, কখন এই ব্যবস্থা বাতিল হলো তা কারো জানা নেই। সেদিনের জাতীয় নেতা; আজকের অনেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যারা সেই হাফ ভাড়া দিয়েই পরিবহনে যাতায়ত করেছেন। এটা নিশ্চই অনেকের স্মরণে আছে। ‘হাফ পাস আবদার নয়,অধিকার’ ছাত্রদের এই দাবি সঙ্গত। এমনিতেই জ্বালনি মূল্যের বৃদ্ধির সাথে সাথে চালাকি করে পরিবহন মালিকরা ২৭% ভাগ ভাড়া বৃদ্ধি করেছে,যা অযৌক্তিক, অন্যায়। পরিবহনের এই ভাড়া বাড়ানো মড়ার উপর খাড়ার ঘাঁয়ের মত। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতা বেসরকারী বাসে ছাত্রদের হাফ ভাড়ার নেই বলে যে কথা বলেছেন তা এ যাবৎ চলে আসা একটি স্বীকৃত ব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য করার সামিল। বিবৃতিতে তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগামী ১লা ডিসেম্বর থেকে কিছু শর্ত সাপেক্ষে সরকারী মালিকানার পরিবহন ‘বিআরটিসি’ ছাত্রদের হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা চালু করবে। কিন্তু ঢাকা মহানগরীসহ অন্যান্য শহরে ‘বিআরটিসি’বাসের সংখ্যা খুবই নগন্য; সেখানে ব্যাক্তি মালিকানায় ৯০% পরিবহন চলাচল করে। সাধারণ মানুষের গণ-পরিবহন হিসেবে ব্যক্তি মালিকানার পরিবহনের উপর প্রধানত নির্ভরশীল। ছাত্রদের যাতায়াত ব্যক্তি মালিকানার পরিবহনেই বেশী। শিক্ষার্থীদের ৫% থেকে ৬% এই পরিবহনে যাতায়াত করে। তাদের হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা নিতে মালিকদের অনীহা বিস্ময়কর এবং অনাকাক্ষিত। তাদের সামাজিক কোন দায় আছে বলেও মনে হয় না। তারা সরকারের হাফ ভাড়া প্রস্তাবের বিরুদ্ধে হুমকি দেয়। অন্যদিকে সরকার মালিকদের এধরনের অন্যায় কর্মকান্ডের প্রতিও কেমন যেন নির্বিকার। মালিকদের এহেন ঔদ্ধত্যপুর্ণ আচরনের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষ একবারেই যেন নিরুউৎসাহী। অথচ আমাদের আশেপাশের দেশসহ পৃথিবির সব খানেই শিক্ষার্থীদের কম মূল্যে ভাড়ার প্রথা চালু আছে। বিবৃতিতে তারা বলেন, করোনা অতিমারির অভিঘাতে মানুষের আয় অনেক কমে গেছে, সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা অনেক হ্রাস পেয়েছে। ফলে ব্যয় নির্বাহে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা গভীর সংকটে পড়েছেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রতিদিন বর্ধিত ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও বাসে নিয়োজিত শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনা বন্ধে শূল্যবৃদ্ধির চার্ট অনুযায়ী ভাড়া নেয়া এবং নগরীতে তথাকথিত ‘সিটিং সার্ভিস ও গেট লক’ প্রথা বন্ধের যে ঘোষণা মালিক পক্ষ দিয়েছেন তা কার্যকর করার আহ্বান জানান।