গণতন্ত্রের প্যারাডক্স

35

রোবায়েত ফেরদৌস : গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যায়। গণতন্ত্র সাধারণ মানুষের কথা বলে- গণতন্ত্র মানে বহুজনের কণ্ঠস্বর। সেই অবস্থা কী বর্তমান বাংলাদেশে আছে? জনমানুষের সেই ‘মাল্টিপল ভয়েস’ এখন কোথায়? সেই ভয়েস সংসদে অনুুপস্থিত, অনুপস্থিত সংসদের বাইরেও। গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা করতে হলে এই ভয়েসকে ফিরিয়ে আনতে হবে। নিজের নৈতিক জায়গা যখন দুর্বল হয়ে যায় তখন বিরোধী শক্তিকে আর সহ্য করার ক্ষমতা থাকে না। বর্তমান অবস্থা তাই। এখানে যে লড়াইটা এখন আছে সেটা ক্ষমতা দখলের। অবশ্যই গণতন্ত্র চর্চার জন্য নয়। তবে নাই-মামার থেকে যেহেতু কানা-মামা ভালো সে জন্য সামরিক বা ভিন্নরকম শাসনের চাইতে দুর্বল গণতন্ত্র অন্যতম। কেন রাজনৈতক দলগুলোর চর্চা, দেখবার দৃষ্টি ও মনোভঙ্গিতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে না। ক্ষমতায় গেলে বা ক্ষমতার বাইরে থাকলেও কেন তারা অগণতান্ত্রিক আচরণ করেন? সমস্ত ক্ষমতা কেন এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে? কেন সংসদীয় গণতন্ত্র প্রকারান্তরে ‘প্রধানমন্ত্রীর একনায়কত্বে’ পর্যবসিত হয়?

আমি মনে করি এর কারণ, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে, দলীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রের চর্চা না থাকা। অথচ একটি রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক চর্চার যে সংস্কৃতি তার শুরু হয় দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা থেকে। পাঠক আপনারাই বলুন, বাংলাদেশের দুই বড় দল/জোটের ভেতরে কি গণতন্ত্রের চর্চা আছে? আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির সভাপতি কিংবা চেয়ারপারসন কী কোনোদিন পরিবর্তন হবে? তার মানে এই নয় যে দুই দলে আর কোনো যোগ্য লোক নেই। মূল ব্যাপারটা হলো দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা নেই। দলের মাঝে গণতন্ত্রের চর্চা না করে দুই দল দেশের মাঝে গণতন্ত্র চর্চা করতে চায় কীভাবে? এই ‘প্যারাডক্সের’ সমাধান কীভাবে হবে?

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়