খোয়াই নদী রক্ষায় ভূমিকা পালন না করলে পরিবেশ-প্রতিবেশ জনজীবন ও জীববৈচিত্রের উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে

118

সংবাদদাতাঃ খোয়াই নদী থেকে হবিগঞ্জের লক্ষ লক্ষ মানুষ কিভাবে তাদের জানমাল রক্ষা করবে এ প্রশ্ন এখন সকল নাগরিকের। উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে গত ১৯ ও ২০ জুন খোয়াই বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছিল। এমন আশংকা প্রতি বর্ষায়ই সৃষ্টি হতে পারে। তাই নদীটিকে বাল্লা থেকে সুজাতপুর পর্যন্ত খনন করতে হবে। এছাড়া চুনারুঘাট থেকে হবিগঞ্জ শহরের গরুবাজার পর্যন্ত বাঁধ মেরামত ও প্রয়োজনে উঁচু করতে হবে। রামপুর থেকে গরুবাজার পর্যন্ত বাঁধের উভয় দিকে গাইডওয়াল নির্মাণ করতে হবে।
শনিবার সকাল ১১টায় খোয়াই ব্রিজ পয়েন্টে খোয়াই নদী খনন ও অন্যান্য দাবিতে আয়োজিত গণসমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন। খোয়াই নদী খনন, বাঁধ মেরামত ও নদীতীরের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করার দাবিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা হবিগঞ্জ শাখা, মার্চেন্ট এসোসিয়েশন ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার আয়োজিত গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাপা জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোঃ ইকরামুল ওয়াদুদ। গণসমাবেশে সূচনা বক্তব্য রাখেন বাপা জেলা সাধারণ সম্পাদক ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল।
এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবিদুর রহমান, মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের আহবায়ক ফজলুর রহমান লেবু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ি জগদীশ মোদক, শংকর পাল, বাপা সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম ও ব্যকস্ সভাপতি শামসুল হুদা। সভায় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আবদুজ জাহের, ব্যকস এর সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন আহমেদ, কমরেড হীরেন্দ্র দত্ত, রোটারিয়ান ফনিভূষণ দাশ, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন, ব্যবসায়ি আলহাজ¦ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নাহিজ, এডভোকেট জুনায়েদ আহমেদ, ব্যবসায়ি মোঃ আতাউর রহমান, হিরাজ মিয়া, ক্রীড়া সংগঠক হুমায়ুন খান, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির জেলা সদস্য সচিব রফিকুল হাসান চৌধুরী তুহিন, বাপা জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক হারুন সিদ্দিকী, রোটারিয়ান নোমান মিয়া, নাট্যকর্মী মুক্তাদির হোসেন, আজহারুল ইসলাম চৌধুরী মুরাদ, সংস্কৃতি কর্মী মনুসর আহমেদ, ওসমান গনি রুমী, পলাশ রায় তুষার প্রমুখ। গণসমাবেশ পরিচালনা করেন সমাজকর্মী আব্দুর রকিব রনি।
সূচনা বক্তব্যে বাপা সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, বহুবছর ধরেই খোয়াই নদীর নাব্যতার ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যুগ যুগ ধরে সরকার ও সংশিøষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনাহীনতার কারণে খোয়াইয়ের নাব্যতা কমে গেছে। নদীটি দূষণের শিকার হয়ে হবিগঞ্জের পরিবেশ ও নদীনির্ভর জীবনযাত্রাকে বিপন্ন করে তুলেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে খোয়াই ব্রীজের তলায় ও এর আশপাশে বর্জ্য ফেলার কারণে নদীর পানি দুর্গন্ধপূর্ণ হয়ে পড়েছে। শহর সংলগ্ন এলাকায় মাইলের পর মাইল নদীর তীর ও নদী অভ্যন্তরে দখল করে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফলে নদী ও নদীর তীর হয়ে পড়ে গেছে হুমকির মুখে। পলিবাহিত খোয়াই নদী খনন না হওয়াতে নদীর তলায় পলি ও বালি জমে জমে স্থনে স্থানে চড়া পড়েছে। শহর থেকে নদীর তলদেশের সবচেয়ে উঁচু স্থানটি প্রায় ১২/১৫ ফুট উঁচু হয়ে উঠেছে। এতে নদীতে ঘিরে থাকা হবিগঞ্জ হয়েছে হুমকির সম্মুখীন আর নদীর অপর পারের গ্রাম ও ফসলি জমিকে সহ্য করতে হচ্ছে ভাঙ্গনের আঘাত। দেখা যায়, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে অথবা অন্য সময়েও পাহাড়ি ঢলে খোয়াই ফুলে-ফেঁপে উঠলে হবিগঞ্জের উজানে অথবা ভাটিতে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। আর ভাঙ্গন মানেই হাজার হাজার একর জমির ফসলহানি ও হাজারও মানুষের দুর্ভোগ।
সূচনা বক্তব্যে আরো বলা হয়, হবিগঞ্জের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষার ক্ষেত্রে অপরিহার্য খোয়াই নদী রক্ষার ক্ষেত্রে কার্যকর ভ‚মিকা নজরে পড়ছে না। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো আন্দোলন ও সচেতনা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জেলার জনপ্রতিনিধি, সরকারের কর্তাব্যক্তি ও সচেতন সুধী সমাজ খোয়াই নদী রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা পালন না করলে জেলার সার্বিক পরিবেশ-প্রতিবেশ, জনজীবন ও জীববৈচিত্রের উপর যে দীর্ঘস্থায়ী মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে তা বলাই বাহুল্য। আমাদের নিজেদের রক্ষার জন্য খোয়াই নদী রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে।