খেলা হবে কোন রাজনৈতিক স্লোগান হতে পারে না: তোফায়েল

স্টাফ রিপোর্টারঃ খেলা হবে, এটা কোন রাজনৈতিক স্লোগান হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ। একই অনুষ্ঠানে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বললেন, শেখ হাসিনার জন্য সর্বোচ্চ আত্মাহুতি দিতে আমরা প্রস্তুত। গতকাল শনিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ শেখ ফজলুল হক মণির ৮৪তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু ২৩ এভিনিউর আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এসময়, বিএনপি পল্টনে সমাবেশ করে অল্প জায়গায় বেশি লোক দেখিয়ে ব্লাফ দিতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ শেখ ফজলুল হক মণি সম্পর্কে তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমি যতটুকু হয়েছি তার সবচেয়ে অবদান শেখ ফজলুল হক মণি ভাইয়ের। উনি শুধু নেতা ছিলেন না, নেতা তৈরি করতেন। আমার সৌভাগ্য তার সঙ্গ পেয়েছিলাম। তিনি বলেন, মণি ভাই ছিলেন আমার প্রিয় নেতা। আমি যখন বরিশালে বিএম কলেজে পড়তাম, তখন তিনি আমার হোস্টেলে গিয়েছিলেন। আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি আমার সঙ্গে ছাত্রলীগের রাজনীতি কর। তখন মণি ভাই ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তারপর থেকে আমার ছাত্রলীগে যাত্রা শুরু। তার সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি। তাকে গ্রেপ্তার করার পরে ১৯৬৭ সালে মুক্তি পেয়েছিলেন। আমরা এক সঙ্গে মুজিব বাহিনীতে ছিলাম।
যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন,শেখ ফজলুল হক মনি আমাদের কাছে বিশ্বস্ততার প্রতীক। ১৫ আগস্টের প্রথম শহীদ হিসেবে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে তিনি আনুগত্য ও বীরত্বের অবিনশ্বর উদাহরণ রেখে গেছেন। শেখ মনির অনুসারী এবং সংগঠনের কর্মী হিসেবে আমরাও গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জন্য সর্বোচ্চ আত্মাহুতি দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, শেখ মনির জন্মদিন আমার কাছে ব্যক্তিগত পর্যায়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যক্তিগতভাবে আমার বাবা শেখ মনিকে আমি খুব কম পেয়েছি। মাত্র ৫ বছর, তারমধ্যে মুক্তিযুদ্ধ, সাংবাদিকতা, লেখালেখি, রাজনীতি, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠন সবমিলিয়ে বাবা ভীষণ ব্যস্ত সময় কাটাতেন। কিন্তু যতটুকু সময় পেয়েছি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি হিসেবে তা চিরভাস্বর। বাবার স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, বাংলার বাণীতে বাবার ব্যক্তিগত লাইব্রেরি দেখে অনুমান করা যায় যে, বাবা জ্ঞান চর্চা করতে ভালবাসতেন এবং একজন রুচিশীল পাঠক ছিলেন। তিনি বলেন, একটা তথাকথিত বিরোধী দল বিএনপি- জামায়াত আজ দেশবিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত, কীভাবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা রোধ করা যায়, শেখ হাসিনার জনবান্ধব সরকারকে পরাস্ত করে কীভাবে ক্ষমতায় আসা যায় সেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে একটা মৌলবাদী, ব্যর্থ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে যুবলীগের চেয়ারম্যান বলেন, অনেক বড় বড় কথা বলে তারা এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে ভয় পাচ্ছে। আপনারা (বিএনপি) না ১০ লাখ লোক জড়ো করবেন? অন্তত পক্ষে ৫ লাখ তো হবে। তাহলে ভয় কিসের? আমি আগেও বলেছি এরা মিথ্যাবাদীর দল, প্রতারণা করে জনগণের সঙ্গে। তবে রাজপথে শেখ মনির যুবলীগ, এই প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিপক্ষদের মোকাবিলা করতে, জনগণের ওপর তাদের জুলুম অত্যাচার ও প্রতারণার জবাব দিতে সর্বদা প্রস্তুত।
যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। এছাড়াও আলোচনা সভায় বক্তব্যে রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনুদ্দিন রানা সাধারণ সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত রেজাউল করিম রেজাসহ যুবলীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দ।