খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর খাদের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে সরকার–রিজভী

সুব্রত সানা: বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান সরকার সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠতেই পারছে না। সমস্ত মানবিকতাকে বিসর্জন দিয়ে প্রতিহিংসা পূরণে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে তারা। বাংলাদেশ থেকে স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি, মৌলিক মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, অন্যের প্রতি সম্মান মুছে ফেলার জন্যই দেশের গণতন্ত্রের প্রতীক গুরুতর অসুস্থ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মৃত্যুর খাদের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে সরকার। তাঁকে জেলবন্দী অবস্থায় অসুস্থ করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। তাঁর প্রতি সহানুভুতিশীল আচরণ তো দুরে থাক, তাঁর মানবাধিকারকেও হরণ করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদ আজ উগ্র রুপ ধারণ করেছে বলেই দেশের বৃহত্তম দলের নেত্রী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধুকছেন। ফ্যাসিষ্টরা সহমর্মিতা, সহানুভুতির ধার ধারে না। এরা নির্দয় দমন-পীড়ণে সকল সমালোচনা ও বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার কাজেই ব্যাপৃত থাকে। বাংলাদেশের আওয়ামী ফ্যাসিবাদ এখন পৃথিবীতে দৃষ্টান্তহীন নির্মমতার ভয়ানক রুপে আত্মপ্রকাশ করেছে।আজ এক প্রেস ব্রিফিং এ কথা বলেন তিনি।

সাবেক ছাত্রনেতা রিজভী আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ ‘গণতন্ত্রের মা’ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মূমুর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নানাবিধ জটিল রোগে তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণের জায়গায় চলে এসেছেন। গতকাল তাঁর মেডিকেল বোর্ডও তাঁর শারীরিক অসুস্থতার বিষয়ে বিস্তারিত যা তুলে ধরেছেন তা উদ্বেগজনক। সেখানেও চিকিৎসকগণ তাঁর অবনতিশীল গুরুতর শারীরিক অবস্থার কথা বলেছেন। এক প্রচন্ড ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দেশনেত্রীর জীবন। দেশে চিকিৎসা দেয়ার মতো আর কিছু বাকী নেই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে বিদেশে উন্নত ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র উদ্ধারের অবিসংবাদিত এই নেত্রী শত নির্যাতনের মুখেও নিজ লক্ষ্যে স্থির থেকেছেন। তাঁকে বিন্দুমাত্র টলানো যায়নি। গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ জনগণের জীবনমানের উন্নতির জন্য দেশনেত্রীর অবদান অবিস্মরণীয়। নারীর ক্ষমতায়ন বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক ও উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছেন সমাজ উন্নয়নে। বেগম জিয়ার আমলে প্রাকৃতিক এবং রাজনৈতিক দুর্যোগকে সামলাতে গিয়ে দেশকে খাদ্য সংকট অথবা দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেননি। বরং তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে দেশ ছিল খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন এবং সকল অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত।

রিজভী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে অবিলম্বে তাঁকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে জোর দাবি জানান।