খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিতে পারে : নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ গয়েশ্বরের

71

যুগবার্তা ডেস্কঃ বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আশঙ্কা প্রকাশ করে, সরকার নানা অভিযোগ তুলে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিতে পারে তাই নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেছেন । এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে দলের নেতাকর্মীদের করণীয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, নেত্রী কারাগারের বাইরে থাকবেন না ভেতরে, সে ব্যাপারে তাদেরই ঠিক করতে হবে। গয়েশ্বরশনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনের ভাসানী ভবনে আয়োজিত দলের এক যৌথ সভায় এ কথা বলেন তিনি।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলার চার্জশিট দেয়ার প্রতিবাদে সোমবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি সামনে রেখে যৌথ সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর বিএনপি। যৌথ সভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নতুন কমিটিতে পদ পেতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পদপ্রত্যাশীদের নানা লবিং-তদবির নিয়ে কথা বলেন। বিএনপিকে নিয়ে সরকারের ‘ষড়যন্ত্রের’ পাশাপাশি দলের ভেতর থেকে কেউ সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করলে পরিণতি কী হবে সেই হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
গয়েশ্বর বলেন, “অনেকে আমাকে অপছন্দ করতে পারে। কিন্তু সত্য কথা বলব। বলতে হবে। মৃত্যুর আগ পর‌্যন্ত বলব।” তিনি বলেন, “ছোটবেলায় সন্তানদের মা-বাবা মাদরাসায় পাঠায় কোরআন শেখার জন্য। আমাকে পাঠায়নি, তবে গালি শেখায়নি।” কোনো ভদ্রলোককে গালি দেন না দাবি করে গয়েশ্বর বলেন, “তবে খারাপকে ভালো বলতে পারি না, এই কু-অভ্যাস আমার আছে। আবার চুপ করে থাকলে কেউ বলে রুমে বসে গালি দিচ্ছি।”
যারা পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন, তাদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, “মিছিলের ছবি, ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে ফেসবুক ভরে ফেলছে একেক জন। অনেকে আবার সিভি নিয়ে, সিডি তৈরি করে দৌড়াদৌড়ি করছে। সিভি নিয়ে না দৌড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কী করা যায় সেটা খেয়াল করুন। কীভাবে আন্দোলন করা যায় সেটা ভাবুন। দল আছে দল থাকবে।”
বিএনপির প্রতি সরকারের অভিযোগের জবাবে গয়েশ্বর বলেন, “বিএনপি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে না। সত্য, ধর্ম ও ন্যায়ের পক্ষে গোপন বা প্রকাশ্য শলাপরামর্শ বা বৈঠক অন্যায় নয়। আমরা আওয়ামী লীগের মতো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করি না।” শীর্ষ নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে গয়েশ্বর বলেন,“পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে নেত্রী আমাদের নিয়ে কিছু আলোচনা করছেন না। এর জন্য কি আমরা দায়ী না? অতীতে হয়তো এমন কিছু না কিছু করেছি যে কারণে তিনি (খালেদা জিয়া) কমিটি করার বিষয় কিছু জানতে চান না। আর তিনি তো আমাদের চেয়ে কম বিএনপি করেন না। তার আমাদের কাছ থেকে জ্ঞান নিতে হবে কেন।”এ ছাড়া ম্যাডাম তো কাউকে বাদ দেননি দল থেকে। আর কাজ করতেও নিষেধ করেননি। আমরা সময় নষ্ট না করে কাজ করতে পারি। কর্মীদের সঙ্গে বসতে পারি। সেটা তো করছি না।
সরকার খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করার ষড়যন্ত্র করছে এমন অভিযোগ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “সরকার মজা পেয়ে গেছে। তাদের সব মামলা প্রত্যাহার করে নেত্রীর (খালেদা) বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিচ্ছে। এখন নেত্রী কারাগারের ভেতরে থাকবেন না বাইরে থাকবেন, সে ব্যাপারে আমাদের করণীয় কিছু নেই? এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারকে এই সুযোগ দেব কি না।” তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে যেনতেনভাবে কাউকে বিএনপি সাজিয়ে নির্বাচন দেয়ার চেষ্টা করলে তা বাংলাদেশে সফল হবে না। আর যদি কেউ দালালি করতে যায় তাহলে রাস্তায় পায়ে পিষ্ট হয়ে যাবে।