ক্যান্টিনে খাবারের দাম কমানো সম্ভব না:জবি ছাত্রকল্যাণ পরিচালক

155

যুগবার্তা সংবাদদাতা, জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্র কল্যাণ পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেছেন, জবির ক্যান্টিনের খাবারের দাম কমানো সম্ভব নয়। অামি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের খবর নিয়েছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অাইবিএ ক্যান্টিন ছাড়া সব বিষয়ের ক্যান্টিনের খাবারের দাম ও মান সমান।

রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারের দফতের সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

জবি ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অারো বলেন, অাগে অনেক ছাত্র ফাউ খেত। তা ছাত্রনেতাদের চাপ প্রয়োগ করে কমিয়ে অানা হয়েছে। অামি নিয়মিত ক্যান্টিন দেখাশুনা করছি।

জানা যায়, আড়াই মাস অাগে জবি ক্যান্টিনের নানা বিধ সঙ্কট নিরসনের জন্য চার সদস্যের একটি গঠনন করে দেন জবি প্রশাসন। তবে অাড়াই মাস পেরিয়ে গেলও কমিটি কোন বৈঠক করে নি। কমিটির পক্ষ থেকে কোন ছাত্র নেতাকেও ডেকে পরামর্শও নেয় নি। ফলে ক্যান্টিনে খাবার মান বাড়ানো ও দাম কমানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দলনে প্রশাসনের আশ্বাসের আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোন ফল আসে নি। এ আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও তেমন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ দেখাতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যান্টিন সমস্যা সমাধানের দাবিতে আন্দোলন রত ছাত্রনেতারা।
জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ক্যান্টিনে খাবারে দাম কমানো, মান বাড়ানো, ক্যান্টিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূর্তকি বাড়ানোসহ বিভিন্ন সমস্য সমাধানের দাবিতে মাঠে মেছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এক সভায় ক্যান্টিন সঙ্কট নিরসনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার অধ্যাপক সেলিম ভূইয়াকে প্রধান করে ছাত্রকল্যাণ পরিচালকসহ ৪ সদস্যের একটি কমিটি করেন । কমিটিকে দু সপ্তাহের মধ্যে ক্যান্টিন সমস্যা নিরসনের জন্য ক্যান্টিনের বিভিন্ন সমস্যা ও তা সমাধান কি খুজে বের করা জন্য সময় বেধে দেন উপাচার্য । তবে ওই মিটিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সেলিম ভূইয়া উপাচার্যের কাছ দু মাস সময় চান। উপাচার্য এসময় তা মঞ্জুর করেন। এসময় শাখা ছাত্রলীগ, ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন, জাসদ ছাত্রলীগ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট দুই অংশের প্রতিনিধি হিসেবে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। তবে আড়াই মাসেও এ কমিটি কোন মিটিং করতে ছাত্রদের ডাকে নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক সেলিম ভূইয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে তার দফতরে গেলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কল্যাণ পরিচালকের সাথে ঢেকে পাঠান। তবে তিনি নিজে কিছু বলতে রাজী হন নি।

এ বিষয়ে জবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যান্টিনে স্বল্পমূল্যে ভাত ডাল সহ খাবারের মান বাড়ানোর দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের পরে প্রশাসন আমাদের বলেছিল, দুই মাসের মধ্যে ডাকসু ক্যান্টিনের মুল্ল্যের এবং মানের খাবার পরিবেশন করবেন । কিন্তু, দুইমাস পেড়িয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।

তিনি আরো বলেন, আমরা প্রয়োজনে আবারো আন্দোলনের যাবো। তবে এবার আশ্বাস নয়, অধিকার আদায় করেই ফিরবো ।

এ বিষয়ে ক্যান্টিনের পরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, ভিসি স্যার ছাত্রদের নিয়ে মিটিং করারপর আর কোন মিটিং হয় নি। এরপর ছাত্রকল্যাণ পরিচালক শফিক স্যার তার অফিসে একদিন ডেকেছিলেন। তিনি আমাকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যান্টিনের খাবারের দামের তালিকা দিতে বলেন। আমি ঢাকা ভার্সিটি, জাহঙ্গীরনগর ভার্সিটিরটা সংগ্রহ করে তা জমা দিয়েছি।

খাবারের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির ফল জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের পক্ষে সাদা ভাতের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়।কারণ ভাতের ব্যবস্থা করার জন্য যা প্রয়োজন তা আমদের সাধ্যের বাহিরে। তবে আমরা পোলও খায়াতে পারবো। আমরা ৪০টাকায় ভাত খাওয়াতে পারবো না , যেখানে আমরা ৪০ এর কমেও পোলাও খাওয়াতে পারছি।

তিনি আরো বলেন , সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমি চেষ্টা চালাচ্ছি । খাবারের দাম কমানো সম্ভব না হলেও মান বাড়ানোর।