কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত সংবিধানের মৌল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগ কোটা থাকবে না। গত ৩ অক্টোবর মন্ত্রিসভার ˆবৈঠকের পর অনুমোদন দেয়া হয়। যা আমাদের সংবিধানের মৌল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জিএম জিলানী শুভ ও সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সামষ্ঠিক চিন্তার চেয়ে ব্যক্তিগত দ্বান্দ্বিকতা বা অহং এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রক্রিয়ায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে সমগ্রদেশের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনরত ছিলো। শিক্ষার্থীরা পরিষ্কারভাবে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির সংস্কার চেয়েছে; বাতিল নয়। তবে তা সমগ্রদেশে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে। পিছিয়ে পড়া অঞ্চল, নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার পর্যালোচনা করে আধুনিকীকরণ করতে হবে। বিগত সাতচল্লিশ বছরে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কোটা প্রয়োগের ফলাফল বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ পশ্চাৎপদ অঞ্চল, নারী, আদিবাসীদের আর্থ সামাজিক উনśয়নের জন্য কোটার যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস করতে হবে। পাশাপাশি শ্রেণিবিভক্ত সমাজে সমতা নিশ্চিত করতে কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের সন্তানদের কোটা ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত কোটা বর্তমান অবস্থার আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে সংস্কার সাধন করা জরুরি। অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে প্রাধান্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সংস্কার সাধন জরুরি। বাংলাদেশে মোট সক্ষাতকের ৪৭ ভাগ বেকার। মোট বেকারের সংখ্যা ৪ কোটির উপরে; যার মধ্যে ৩ কোটি নারী। শুধুমাত্র কোটা সংস্কার করে বিপুল বেকারত্বের নিরসন সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ ˆতরিতে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা গ্রহণ, দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান ˆতরি, শিক্ষা ব্যবস্থায় কারিগরি ও কর্মমূখী শিক্ষাকে উৎসাহিত করার যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বর্তমানে কর্মসংস্থানের অধিকার সংবিধানের রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত আছে। কর্মসংস্থানের অধিকারকে সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।