কৃষিনীতি বহুজাতিক কোম্পানীর স্বার্থ রক্ষার জন্যই করা হয়েছে

68

যুগবার্তা ডেস্কঃ খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে যারা কাজ করেন তারা বলছেন খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর চাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে যে খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে সেটা নিরাপদ কিনা। এই প্রশ্নে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে ঢাকায় আজ (বুধবার) শুরু হতে যাচ্ছে নিরাপদ খাদ্য সম্মেলন। জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশকে কয়েক বছর ধরেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেন সম্মেলনের অন্যতম আয়োজক সংস্থা উবিনিগের প্রধান নির্বাহী ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে যেটা বলা হয় যে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু যেই পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছে সেখানে খাদ্যের মান রক্ষা করা হচ্ছে না। যে খাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছে সেটা যেন স্বাস্থের জন্য ঝুঁকি না হয় সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার, যথেচ্চ ব্যবহার এবং অনেক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে শুধুমাত্র পাকানোর জন্য কিংবা রং দিয়ে একটু আকর্ষণীয় করার জন্য যে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে যার ফলে এগুলো আর খাদ্যের মধ্যে পরে না।
ফরিদা আখতার আরও বলেন, পৃথিবীর যেসব দেশ অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে সেসব দেশের খাদ্যের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। জাতিসংঘের যে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা আছে তারা পর্যন্ত এখন খাদ্যেও মান নিয়ে উদ্বিঘ্ন এবং এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করছে। যারা এতদিন উৎপাদনের কথা বলেছে, পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলেছে তারা এখন বুঝতে পারেছ পরিমাণ বাড়িয়ে কোন লাভ নেই যদিনা এটা মানুষের স্বাস্থে্র জন্য উপকারী না হয়।
খাদ্য উৎপাদনের জন্য কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ প্রসঙ্গে ফরিদা আখতার বলেন, আমি মনে করি কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করা না করা প্রশ্নটা আসেব যদি কীটনাশক আসলে প্রয়োজন থাকত তাহলে এর ব্যবহার হত। কিন্তু আসলে যারা কীটনাশক ব্যবহার করছেন তারা কীটনাশক প্রয়োজনের জন্য করছেন না তারা করছেন কীটনাশক ব্যবসার জন্য। কীটনাশক কোম্পানীগুলো কৃষি কাজের ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে বহুজাতিক কোম্পানীগুলো যারা উন্নত প্রযুক্তির নিয়ে আসছে তারা কখনই কৃষির সাথে সম্পৃক্ত ছিলনা। তারা ছিল মুলত কীটনাশক কোম্পানী। ফলে তারা তাদের ব্যবসার প্রয়োজনে এই কাজটা করছে। আমরা কীট দমন বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে পারি এবং সেটার জন্য কৃিষতে কৃষকদের জ্ঞান সমৃদ্ধ, অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার অনেক পদ্ধতি আছে। কীট দমনের জন্য যে কীটনাশকই ব্যবহার করতে হবে এমন না।
বাংলাদেশে জনসংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে, জমির পরিমাণ কমে গেছে সেক্ষেত্রে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা রক্ষার জন্য কীটনাশকের ব্যবহার প্রসঙ্গে ফরিদা আখতার বলেন, কীটনাশক ব্যবহার করে উৎপাদন বেশি করে মানুষকে কী রক্ষা করা যাচ্ছে। ভেজাল খাদ্য গ্রহনের ফলে এখন যে পরিমাণ রোগ বাড়ছে যেমন- ক্যান্সার থেকে শুরু করে, নানা রকম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এখন সংখ্যাটা যদি সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে কী বিষ দিয়ে মানুষকে মেরে ফেলতে চাচ্ছেন। খাদ্যের জমিতে কেন তামাক চাষ করতে দেয়া হচ্ছে। মানুষের খাওয়ানোটা যদি সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে সব জমিতে খাদ্য উৎপাদন করা হোক। কাজেই জনসংখ্যা বেশি সেটা সমস্যা না। আমাদের দেশে যে কৃষি নীতি আছে সেটা বহুজাতিক কোম্পানীর স্বার্থ রক্ষার জন্যই করা হচ্ছে। এখানে মানুষের সংখ্যাটা অজুহাত মাত্র।আরিফুর রহমান, আমাদের সময়.কম