কৃষককে থানায় ৩৬ ঘণ্টা আটকে রেখে টাকা আদায়ের চেষ্টা

28

রাজশাহী অফিসঃ এক কৃষককে থানায় ৩৬ ঘণ্টা আটকে রেখে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। অসহায় ওই কৃষকের পরিবারের সদস্যরা টাকা দিতে না পারায় অবশেষে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার সময় বাবলু শেখ (৫০) নামে ওই কৃষককে তার বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। বাবলুর বাড়ি উপজেলার হাবাসপুর গ্রামে। প্রতিবেশির সঙ্গে মারামারির অভিযোগে তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। যদিও তাকে আটকের সময় তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা ছিল না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়ির সীমানা সংক্রান্ত বিষয়ে বাবলু শেখের সঙ্গে তার আদিবাসী প্রতিবেশি উমিন ওঁরাওয়ের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে প্রায় একমাস আগে তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষেরই কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে দু’পক্ষই থানায় অভিযোগ করেন। এরপর আদিবাসীদের পক্ষ নিয়ে থানা পুলিশ বাবলু শেখের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা শুরু করে।

এরই অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বাবলুকে তার বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর শুরু হয় দর-কষাকষি। পুলিশের পাশাপাশি উপজেলার পিরিজপুর এলাকার এক মন্দিরের সেবায়েত অরুণ পান্ডে বাবলুর পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এই টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়ার কথা বলা হয়।

কিন্তু ওই কৃষকের পরিবার এতো টাকা দিতে পারেননি। এ জন্য ৩৬ ঘণ্টা ধরে তাকে থানা হাজতেই রাখা হয়। পরে বুধবার সকালে উমিন ওঁরাওয়ের ছেলে তাপস ওঁরাও থানায় মামলা করেন। কিন্তু মামলা করার পরও তাকে ওই দিন আদালতে পাঠানো হয়নি। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

বাবলু শেখের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৪০) বলেন, ‘এই সোমবার এলে মারামারির ঘটনা একমাস হবে। এতোদিন পর পুলিশ টাকা আদায় করার জন্য আমার স্বামীকে ধরে এনেছিল। অরুণ পান্ডে মিমাংসার নামে টাকা চেয়েছিল। দিতে পারিনি বলে মামলা করা হয়েছে।’

ছেলে সুমন শেখ (২৫) অভিযোগ করেন, বাবলুকে আটকের পর পুলিশও তার কাছে টাকা চেয়েছিল। টাকা না দিলে তাকেও আটকের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি টাকা দিতে পারেননি। এখন তিনি আটক হওয়ার আতঙ্কে আছেন।

নিয়ম অনুযায়ী কাউকে আটকের পর ২৪ ঘণ্টার বেশি থানায় রাখতে পারবে না পুলিশ। অথচ বাবলুকে ৩৬ ঘণ্টা থানায় রাখা হলো। কেন-জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি প্রথমে দাবি করেন, বাবলুকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে আটক করা হয়েছিল। তবে পরে ওসি স্বীকার করেন তাকে মঙ্গলবার রাত ২টার দিকেই আটক করা হয়েছিল।

ওসি বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন বিষয়টি আপোষ করার চেষ্টা করেছিল। অরুণ পান্ডে একজন দালাল। তার জন্যই বাবলুকে আদালতে পাঠাতে দেরি হয়ে গেছে। তবে এতে আইনের কোনো ব্যাতায় ঘটেনি। কারণ, বাবলুকে আদালতে পাঠানোর ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যেই থানায় মামলা হয়েছে। আটক যখনই করা হোক না কেন।’