কুয়াকাটায় পূন্যস্নান শেষ।। পুন্যের আশায় সাগরে অর্পণ করেছেন ধান দূর্বা, তেল ও সিঁদুর

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: নির্ঘুম রাত কাটিয়ে পূর্নিমা তিথিতে সূর্য ওঠার সাথে সাথে কুয়াকাটার সৈকতে পূন্যস্নান শেষ করেছেন হাজারো সনাতন ধর্মালবলম্বী নর-নারীরা। শুক্রবার সকালে পুন্যার্থীরা স্নানের আগ মুহুর্তে সৈকতে পুণ্যের আশায় কেউ মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালিয়ে উচ্চস্বরে গীতা ও চন্ডি পাঠ করেছেন। আবার কেউ হাতে বেল পাতা, ফুল, ধান, দূর্বা, হরিতকী, ডাব, কলা, তেল, সিঁদুর সাগরের জলে অর্পণ করেছে। এ সময় সনাতন ধর্মালবলম্বী নারীদের উলুর ধ্বনিতে মুখরতি হয়ে ওঠে পুরো সৈকত। আবার কেউ কেউ মাথার চুল ন্যাড়া করা, প্রায়শ্চিত্ত ও পিন্ডদান করেন। তবে এবছর সৈকতে বসেনি মেলা। এর আগে রাতভর কুয়াকাট শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে পূজার্চনা, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও মহানাম কীর্তনে মেতে ওঠে সনাতনীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এবছর সবচেয়ে কম সংখ্যক পুণ্যার্থীদের আগমন ঘটেছে এ উৎসবে। আবাসিক হোটেল মোটেল গুলোতে তেমন কোন চাপ ছিল না। আগত দর্শনার্থী ও পূণ্যার্থীর জন্য নিরাপদ পানি, মেডিকেল টিম, স্যানিটেশনসহ স্নান শেষে পোশাক পরিবর্তনের ব্যবস্থা করেছেন আয়োজক কমিটি। এছাড়া আগত পূন্যার্থী ও দর্শনার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তায় র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার, স্বেচ্ছাসেবক একত্রে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছেন।
কুয়াকাটায় পুন্যস্নানে আসা পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, নানা রকম সমস্যার মধ্যেই এ বছরটা পার করেছি। সামনের দিনগুলো যাতে ভালো কাটে, সে মনোবাসনা নিয়ে কুয়াকাটায় পুণ্যস্নান করতে এসেছি। ভালোভাবেই ধর্মীয় আচার পালন করতে পারায় নিজের কাছে ভালো লাগছে।
গবিন্দ চন্দ্র বড়াল নামে একজন সাগরের পানিতে নেমে মনে মনে কী যেন জপতে লাগলেন। খানিক পর দুহাতে সাগর থেকে পানি নিয়ে স্ত্রী-পুত্রের মাথায়-গায়ে ঢেলে দিলেন। এভাবে ভক্তকুলের নানান রকমের নিয়ম-রীতি পালন করতে দেখা গেল। কেউ নিজের জন্য, আবার কেউ স্বর্গবাসী মা-বাবার জন্য মানত করে সৈকতের বালুচরে বসে মাথা ন্যাড়া করেন। ভক্ত দাস নামের পুন্যার্থী বলেন, বাবা মারা গেছেন কয়েক মাস হলো। তার নামে মানত করেছিলাম। পূর্ণিমার তিথিতে রাসপূজার সময় মাথা ন্যাড়া করে সে মানত রক্ষা করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
কুয়াকাটা রাস পূজা ও পুন্যস্নানে উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজল বরণ দাস বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে রাতভর শ্রী কৃষ্ণের নাম যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশা সনাতন ধর্মালবলম্বী নর-নারীরা অংশগ্রহন করেন। তবে পুন্যার্থীরা পূর্নিমা তিথিতে সুন্দর ভাবেই স্নান সম্পন্ন করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মহিপুর থানার ওসি মো.অবুল খায়ের বলেন, কোন ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনাছাড়াই কুয়াকাটায় রাস পুজা ও পুন্যস্নান সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কলাপড়া সার্কেল) এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।