কীর্তনখোলার ভাঙ্গনের কবলে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট রক্ষায় কাজ শুরু

76

কল্যাণ কুমার চন্দ,বরিশাল থেকেঃ কীর্তনখোলা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে চরম হুমকির মুখে থাকা ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মানাধীন নগরীর বেলতলাস্থ সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট রক্ষায় ৩০ লাখ টাকার কাজ শুরু করা হয়েছে। নির্মাণাধীন এ প্লান্ট উদ্বোধণের আগেই নদীর ভাঙ্গণে হুমকির মুখে পড়ায় চরম হতাশা দেখা দিয়েছে নগরবাসীর মধ্যে।
বরিশাল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী লুৎফুর রহমান জানান, ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ক্ষতিসাধন হওয়ার পূর্বেই ৩’শ ফুট জায়গার ভাঙ্গনরোধে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বালু ভর্তি প্লাষ্টিক জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে কীর্তনখোলা নদীর ভাঙ্গনের হাত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট রক্ষায় ৩০ লাখ টাকার একটি ব্যয়ের খসরা আনা হয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড আপাতত কোন পদক্ষেপ নিতে না পারায় এটি রক্ষায় স্থানীয়ভাবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের ঠিকাদারদের দিয়ে ওই ব্যয়ের খসরা অনুসারে কাজ শুরু করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের বরিশাল অঞ্চলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রশিদুল হক জানান, গত ৫ দিনের অব্যাহত ভাঙ্গনে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের নদীসংলগ্ন গাইড ওয়াল ভেঙ্গে গেছে। প্লান্টের সীমানার ভেতরে থাকা বালুর স্তর ধুয়ে মাটি ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। এ মুহুর্তে এটি রক্ষার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। তারা স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করার আগেই আপতত চলমান ভাঙ্গনরোধ বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক মো. রবিন রায়হান বলেন, বিশুদ্ধ পানি সাপ্লাই দেয়া আমাদের কাজ। আর নদীর ভাঙ্গনরোধ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাজ। তারপরেও যেহেতু আমাদের এ প্রকল্পটি হুমকির মুখে তাই এটিকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল কিছু করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৫ লাখ নগরবাসীর চাহিদার ৪ কোটি ৫০ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানির মধ্যে বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ উৎপাদন করতে পারছে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার লিটার পানি। এরমধ্যে ধারনক্ষমতা না থাকায় বর্তমানে নগরবাসীর মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে ১ কোটি ৫৭ লাখ লিটার পানি। নগরবাসীর পানির চাহিদা মেটাতে বেলতলা নামক এলাকায় ২০১২ সালে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এবং নগরীর রুপাতলীতে ২০১৩ সালে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ শুরু করা হয়। দুটি প্লান্টই কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত। প্লান্ট দুটি চালু হলে ১ কোটি ৬০ লাখ করে ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকারী অর্থে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে বেলতলায় অবস্থিত সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টটির কাজ বর্তমানে ৯৫ ভাগ এবং রুপাতলীতে অবস্থিত প্লান্টের কাজ ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে।