কাড়ি কাড়ি টাকাসহ আটক জেলার সোহেলকে অব্যাহতি

প্রায় চার কোটি টাকা (নগদ, চেক ও এফডিআর) এবং ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার হওয়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কারা অধিদফতর। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড চেয়েছে ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশ। আবেদনটি শুনানির অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। জিআরপি ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মজিদ এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

ওসি বলেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অপরটি মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জিআরপি ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়া বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন। সোহেল রানা বিশ্বাসকে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই মামলায় ৭ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বলেন, ঘটনাটি নিশ্চিত হয়ে তাকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কারা অধিদফতর। ফোনে শুক্রবার রাতেই খবরটি জানিয়েছে। তবে এখনো লিখিত কোনো আদেশ আসেনি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেলার) সোহেল রানা বিশ্বাসকে ১২ বোতল ফেনসিডিল ও নগদ ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার ‘অবৈধ’ টাকাসহ আটক করে রেলওয়ে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে গোপন তল্লাশিকালে ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের হাতে আটক হন তিনি।

ওই সময় জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক এবং তার স্ত্রীর নামে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর সংক্রান্ত নথি উদ্ধার করা হয়েছে।

কারাগারে থাকা সোহেল রানার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদরের আর কে মিশন রোডে। বাবা মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাত আলী বিশ্বাস। ২০০০ সালে বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেখিয়ে কোটায় চাকরি নেন সোহেল। খাগড়াছড়ি জেলা কারাগার থেকে বদলি হয়ে ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার হিসেবে যোগ দেন তিনি।

গ্রেফতারের পর সোহেল পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, মূলত টাকাগুলো অবৈধ প্রক্রিয়ায় পাওয়া। ওই টাকার মধ্যে ৫ লাখ ছিল তার। বন্দীদের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের একজন ঠিকাদার ট্রেনে ওঠার আগে তাকে দিয়ে গেছেন। বাকি টাকা চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি পার্থ কুমার বণিক ও চট্টগ্রাম কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিকের। ঢাকার কাশিমপুর কারাগারে ১ নভেম্বর জেলারদের নিয়ে সম্মেলন হবে। ওই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে তিনি তিন দিনের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। মাসোহারার টাকা তার ঊর্ধ্বতন দুই কর্তাকে ঢাকায় নিয়ে দেয়ার কথা ছিল।-আমাদের সময়.কম