কাল প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল উন্মুক্তকরন হচ্ছে

মোংলা থেকে মোঃ নূর আলমঃ আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলে নৌযান চলাচলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। নদী ভরাট হয়ে য্ওায়ার ফলে এই চ্যানেল দিয়ে মোংলা বন্দরের পন্য পরিবহনের নৌযান চলাচল বন্ধ ছিলো। বিকল্প রুট হিসেবে সুন্দরবনের শ্যালা নদী দিয়ে নৌযান চলাচল করতো। এতে হুমকির মধ্যে ছিলো সুন্দরবনের জীববৈচিত্র-প্রানবৈচিত্র এবং জলজ প্রানী। সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে নৌযান চলাচলের ফলে তেল-কয়লা-সারের ট্যাংকার/কার্গো ডুবির ফলে জীববৈচিত্রের হুমকির এক পর্যায়ে পরিবেশবাদী ও দেশবাসীর দাবী ছিলো শ্যালা নদী দিয়ে সকল প্রকার নৌযান চলাচল বন্ধ করতে হবে। এমনি এক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে শুরু হয় মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের খনন কাজ। সেই ধারাবাহিকতায় সরকার এখন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র রক্ষায় শ্যালা নদী দিয়ে সকল প্রকার নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে আগের মতো আবার মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল খননের মাধ্যমে নৌযান চলাচলের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে চ্যানেল উন্মুক্ত করা হচ্ছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানান সুন্দরবন সুরক্ষায় আজ সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিড্ওি কনফারেন্স’র মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয়ের সাথে সংযুক্ত হয়ে মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল উন্মুক্তকরন এবং ড্রেজার কার্য্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল ১১টায় একই ভাবে মোংলার জয়মনিরঘোলের জেটিসহ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন সাইলো প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে ১ জুলাই ২০১৪ সাল হতে ৩১ কিলোমিটার ধারাবাহিক ভাবে মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-পথ’র খনন কাজ শুরু করে তারা। এ পর্যন্ত ড্রেজার দ্বারা ১৭৮.২৪ লক্ষ ঘনমিটার ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ড্রেজিং অংশে পলি ভরাটের কারনে সংরক্ষণ খননের আ্ওতায় ৫৮.৫৬ লক্ষ ঘনমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে। বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র ৪টি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫টি সর্বমোট ৯টি ড্রেজার ড্রেজিং কাজে নিয়োজিত রয়েছে। পরীক্ষামূলক ভাবে মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল খুলে দিয়ে দেখা গেছে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬-৮ ফুট ড্রাফটের ৫০-৭০ টি এবং ১০-১৪ ফুট ড্রাফটের ৪০-৬০ টি কার্গো চলাচল করছে। মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল দিয়ে পরীক্ষামূলক ভাবে ২ অক্টোবর ২০১৬ তারিখ পর্যন্ত মোট ৩৩ হাজার ভ্যাসেল চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।
মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ’র তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী মোঃ ছাইদুর রহমান বলেন মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলে প্রতিনিয়ত পলি পড়ে। চ্যানেলের সংযোগ ৮৩টি খাল যদি কেটে না দেয়া হয় তাহলে আজীবন এভাবে খনন করে যেতে হবে। এর পর আর মাটি ফেলানোর জায়গা প্ওায়া যাবে না। এভাবে হয়তো ২/৩ বছর চ্যানেল চলতে পারে।
বন্দর শ্রমিক নেতা মাইনুল হক মিন্টু বলেন আ্ওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর জননেত্রী শেখ হাসিনা মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল খনন করেছে। এখন বড় বড় কার্গো-কোস্টার জাহাজ চলাচল করছে। মোংলা দিয়ে চ্যানেল হয়ে মালবাহী জাহাজ ঢাকা-চিটাগাং যাচ্ছে। চিটাগাং থেকে মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল হয়ে নোয়াপাড়া যাচ্ছে। কোন সমস্যা হচ্ছে না। তবে নাব্যতা ধরে রাখার জন্য চ্যানেলের খনন কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।
পরিবশে অধিদপ্তর খুলনার পরিচালক মল্লিক আনোয়ার হোসেন বলেন খননের ফলে কোন বিরুপ প্রভাব পড়েনি। এখানে পলির পরিমান বেশী এ জন্য ধারাবাহিক খনন কাজ চালু আছে। মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-পথ সচল রাখতে পারলে সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে নৌযান চলাচলের আর দরকার হবে না। সেক্ষেত্রে সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র রক্ষা পাবে। দেশবাসীর দাবী ছিলো সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে যাতে নৌযান চলাচল না করে, সেটা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো।

কার্গোা ড্রাইভার আঃ মালেক বলেন এমন এক সময় ছিলো মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল পায়ে হেটে এবং গাড়ীতে করে পার হয়েছি। নদীর মধ্যে ছেলেরা ফুটবল খেলেছে এবং ধান চাষ করা হয়েছে। এখন চ্যানেল সচল হয়েছে। চলাচালে কোন অসুবিধা হচ্ছে না।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ আব্দুস সামাদ বলেন সাফল্যের সাথে খনন চলেছে। ৮-৯ এবং ১৪ ফুট ভ্যাসেল যাচ্ছে এখন। এ পর্যন্ত ৩৩ হাজার ভ্যাসেল চলেছে। সুন্দরবনের শেলা নদী দিয়ে কোন ভ্যাসেল যাচ্ছে না। জোয়ারের সময় সকল ভ্যাসেল যাচ্ছে। ভাটার সময়্ও ভ্যাসেল যেতে পারছে। ভাটার সময় ১০ ফুট পনি থাকে এবং জোয়ারের সময় ১৮/১৯ ফুট পানি থাকে।