কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জাসদ ভাঙ্গার পরে, দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

110

যুগবার্তা ডেস্কঃ গতকাল শনিবার জাতীয় কাউন্সিলে নেতৃত্ব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গনের পরে দুপক্ষ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ছুড়ে দিচ্ছে। আজ রবিবার পৃথক সংবাদ সম্মেলনে উভয় পক্ষ যুক্তি, পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন।
রোববার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুনরায় নির্বাচিত সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, জঙ্গিবাদের সহযোগিতা করার জন্যই দলের কয়েকজন কাউন্সিল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মতো এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, কার্যকরী সভাপতি হাবিবুর রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
ইনু বলেন, ‘রহস্যজনক কারণে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ বাইরে গিয়ে তারা কাউন্সিল থেকে বের হয়ে গিয়ে রাস্তায় বসে নিজেদের মতো একটি কমিটি ঘোষণা করে। কিন্তু তারপরও কমিটিতে তাদের রাখা হয়েছে।’
কাউন্সিল থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরও কেন তাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা তাদের ভুল শুধরিয়ে আবারো যাতে দলে ফিরে আসতে পারে সেই আশা থেকে তাদের নতুন কমিটিতে রাখা হয়েছে।’
অপরদিকে বেড়িয়ে যাওয়া অংশটি জাতীয় সংসদ ভবনে জাসদের বিদ্রোহী কমিটির কার্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন হাসানুল হক ইনুর স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক অস্বচ্ছতা এবং ব্যক্তিগত অনুরাগের কারণে দলে ভাঙন হয়েছে।

সম্মেলনে মঈনুদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘এ বিস্ফোরণ হওয়ার নেপথ্যে কাজ করেছে মন্ত্রী হওয়ার পর উনার (ইনু) আর্থিক আচরণ সম্পর্কে দলের প্রশ্ন। এ ব্যাপারে অস্পষ্টতা আছে, অস্বচ্ছতা আছে। দলীয় সভাপতি হিসেবে ব্যক্তিগত রাগ-অনুরাগ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কিন্তু ইনু তা-ই নিয়েছেন। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, তিনি (ইনু) ৬ বছর আমাদের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক (বর্তমান সভাপতি) শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে কোনো কাজ করতে দেন নাই। বাধা সৃষ্টি করেছেন। আমরা দল ভাঙতে চাইনি, ভাঙন কাঁধের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, ‘আমরা ১৪ দলীয় জোটে থাকবো। তবে ১৪ দলে আমাদের অবস্থান অনেক স্বচ্ছ হবে। আমরা মানুষের স্বার্থে যা বলার, তা বলার চেষ্টা করবো। আমরা হরতনকে হরতন ও রুহিতনকে রুহিতন বলবো।’
সংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বাদল বলেন, আপাতত আমাদের দলের কোনো নির্দিষ্ট অফিস নেই। জাসদের যে অফিসটি আছে তা চারজনের নামে। এর মধ্যে একজন কাজী আরেফ আহমেদ মারা গেছেন। বাকি তিনজনের মধ্যে একজন হাসানুল হক ইনু। বাকী দুজন আমাদের সঙ্গে আছে। এইটা আইনি বিষয় এই বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান ও দলটির একাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।