কমছে পানি, বাড়ছে ভাঙন

রাজশাহী অফিসঃ রাজশাহীতে পদ্মায় পানি কমছে। আগের দিনের চেয়ে তিন সেন্টিমিটার পানি কমে সোমবার পদ্মা বইছিলো ১৮ দশমিক ৪৩ মিটারে। বিকাল ৫টার দিকে নগরীর বড়কুঠি পয়েন্টে পানির এ প্রবাহ রেকর্ড করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মায় প্রবাহ ছিলো ১৮ দশমিক ৪৬ মিটার। এটিই এ মৌসুমের সর্বোচ্চ প্রবাহ। আর মাত্র ৪ সেন্টিমিটার পানি বাড়লে ছুঁয়ে ফেলতো বিপদসীমা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহীর বড়কুঠি গেজ পাঠক শহিদুল ইসলাম জানান, রোববার দিনভর পদ্মা প্রবাহিত হয়েছে ১৮ দশমিক ৪৬ মিটারে। আগের কয়েকদিনে পানি বাড়লেও রোববার তা ছিলো স্থিতিশীল।

সোমবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। সকাল ৬টায় পদ্মায় প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ১৮ দশমিক ৪৫ মিটার। যা ছিলো আগের দিনের চেয়ে এক সেন্টিমিটার কম। সকাল ৯টায় প্রবাহ ছিলো একই। তবে দুপুর ১২টায় আরো এক সেন্টিমিটার কমে। বেলা ৩টায় আরো এক সেন্টিমিটার কমে পদ্মা প্রবাহিত হচ্ছিলো ১৮ দশমিক ৪৩ মিটারে। এখন পানি ধীরে ধীরে কমবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, হঠাৎ ফুলে-ফেঁপে ওঠা পদ্মার প্রবল স্রোতে ফাটল ধরেছে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের টি-গ্রোয়েনে। রোববার সকালে নগরীর শ্রীরামপুর এলাকার ওই ট্রি-গ্রোয়েনে ভাঙন দেখা দেয়। তখন থেকেই বাঁধ রক্ষায় জিওব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তবে টি-গ্রোয়েন এখন পুরোপুরি সুরক্ষিত বলে জানিয়েছেন ওই পয়েন্টে দায়িত্বরত রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মাহবুব রাসেল। তিনি বলেন, রোববার থেকে তারা সেখানে জিওব্যাগ ফেলছেন। সোমবার পর্যন্ত সেখানে ৫০০ জিওব্যাগ ফেলা হয়। আগে এটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও এখন পুরোপুরি সুরক্ষিত।

তবে এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের পুলিশ লাইন পয়েন্ট। আগের কয়েক দফা বন্যায় বাঁধের ওই অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ বছর সেটির মেরামেত চলছিলো। তবে পানি বেড়ে গিয়ে ব্লক দেবে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় কাজ। সেখানে বালির বস্তা ফেলে বাঁধ টেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে, পদ্মায় পানি কমলেও এর খুব একটা প্রভাব পড়েনি বন্যা কবলিত এলাকায়। ডুবে রয়েছে রাজশাহী শহরের পদ্মা তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো। জেলার পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের তিনটি চর এলাকা, গোদাগাড়ীর চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের অন্তত ৬০ ভাগ, বাঘার চক রাজাপুর ইউনিয়নের পুরো এলাকা এখনো তলিয়ে। এর সঙ্গে নতুন করে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ধীরে ধীরে বাড়ছে ভাঙনের তীব্রতাও। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে দুর্গত এলাকার লোকজন।

দুর্গতদের মাঝে সাধ্যমত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। সোমবার বন্যা কবলিত পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নে দুর্গতের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসন কাজী আশরাফ উদ্দিন। সেখানকার ৪০০ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়। এছাড়া গবাদিপশু পালনে যুক্ত আরো ৫২ পরিবারকে এক হাজার টাকা করে অনুদান দেয় জেলা প্রশাসন।

ওইসময় পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম হোসেন, হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় তাদের প্রস্তুতি রয়েছে। তবুও বিত্তবানদের দুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। ত্রাণ বিতরণ চলছে অন্য দুর্গত এলাকাগুলোতেও। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত।