ওয়ার্কার্স পার্টি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কে যৌথসভা অনুষ্ঠিত

109

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি দলীয় ভিত্তিতে ও দলের প্রতীক নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক আখ্যায়িত করে বলেন, তবে এর যাত্রা শুরুতেই খুঁত রয়ে গেল। জাতীয় সংসদে পৌরসভা নির্বাচন আইন এই মর্মে সংশোধিত হলেও কাউন্সিলরদের এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেয়ায় মাথা থেকে ধড় আলাদা করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আইনে যে স্ববিরোধীতার জন্ম দেয়া হয়েছে তা ইউনিয়ন কাউন্সিল ব্যবস্থাকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল করে ফেলবে। স্থানীয় সরকারে দলভিত্তিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তৃণমূলে গণতান্ত্রিক রাজনীতির যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কমরেড মেনন বলেন, স্থানীয় সরকারে নির্দলীয় নির্বাচন চালু করে আয়ুব খান তাঁর মৌলিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে তার থেকে মুক্তি পাওয়া গেলেও এদেশের ক্ষমতা দখলকারী সামরিক শাসকরা নেতৃত্বাধীন সরকারের সেই লিগ্যাসী অব্যাহত রাখেন। নব্বুইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরও তার পরিবর্তন হয়নি। শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্তে সেই লিগ্যাসী থেকে বেরিয়ে আসা গেছে তবে দ্বিধা কাটেনি। কাউন্সিলর পদে দলবিহীন নির্বাচন তারই প্রতিফলন।
রাশেদ খান মেনন শুক্রবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের যৌথসভায় সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন। রাশেদ খান মেনন বলেন, বিদেশী অর্থ সাহায্য পুষ্ট কিছু এনজিও ব্যক্তিত্ব এ ব্যবস্থাকে মেনে নিতে পারছে না। দলীয় নির্বাচন হওয়ায় বিভিন্ন প্রজেক্টের নামে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের মগজ ধোলাই করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে গেল। কিছু বাম নেতারাও এর সাথে সুর মিলিয়ে ‘দলতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ এনেছে। এর মাঝে কেউ কেউ প্রথমে ‘না’ বলে এখন ‘তৃণমূলে সংগঠন’ গড়ে তোলার কথা বলে তাদের ঐ অবস্থান থেকে সরে এসেছে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা বলেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেমন হবে সে সম্পর্কে কমরেড মেনন বলেন, এই নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের জন্য কঠিন পরীক্ষা। বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ এ সকল নির্বাচনকে তাদের একান্ত কাছের বিষয় ও নির্বাচনে এই ভোটপর্ব উৎসব বলে মনে করে। এ ক্ষেত্রে কেউ যদি তাদের ভোট কেড়ে নিতে চায়, নির্বাচনে কোন অনিয়ম, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভোটদানে বাধাদান বা ভোটের রায় পাল্টে দেয়ার মতো যে প্রবণতা সম্প্রতি পরিপৃষ্ট হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায় তবে জনগণ চরম বিক্ষুব্ধ হবে এবং এই গণবিক্ষোভ কোন পরিণাম নেবে তা বলা যায় না। কমরেড মেনন নির্বাচন কমিশনকে খামখেয়ালী বন্ধ করে নির্বাচনী আচরণ বিধি প্রণয়ন ও তার পরিপূর্ণ প্রয়োগের আহ্বান জানান।

সভায় পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, তৃণমূলে গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিস্তারের ক্ষেত্রে পৌরসভা আইন সংশোধনে খ-িত প্রয়োগ জনমনে দ্বিধা সৃষ্টি করবে এবং যারা জনগণকে ক্ষমতাহীন রাখতে বিরাজনীতি করণের ধারায় তাদের ব্যবহার করতে চায় তাদের সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে। কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, সংসদে আমরা এই বক্তব্য তুলে ধরেছি এবং স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী তার বক্তব্যে এর যৌক্তিকতা স্বীকার করে বলেছেন এখন এই আইনটা পাশ করি। ভবিষ্যতে সংশোধন করা যাবে। কমরেড বাদশা আশা প্রকাশ করেন পৌরসভা নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপকে সংশোধন করা হবে। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের এই স্বল্প সময়ের মধ্যেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে সকল দ্বিধা ছেড়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। বাদশা তার বক্তৃতায় তৃণমূলে বিএনপি-জামাত কর্মীদের বাদে সমাজকর্মী ও ভালো লোকদের নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে আহ্বান জানান।
পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তৃতা করেন পার্টির স্থানীয় ও পার্লামেন্টারী বিভাগের ইনচার্জ কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, কমরেড বিমল বিশ্বাস, কমরেড নুরুল হাসান, কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, কমরেড নুর আহমদ বকুল, কমরেড হাফিজুর রহমান ভুইয়া, কমরেড শফিউদ্দিন আহমেদ, কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, কমরেড মনোজ সাহা, কমরেড হাজেরা সুলতানা এমপি, কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপ, কমরেড মুস্তফা লুৎফুল্লা এমপি সভায় বক্তব্য রাখেন। সভায় দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘হাতুড়ি’ মার্কা সম্বলিত পোস্টার ও প্রচারপত্র বিলি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তহবিলের জনগণের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়।