ওয়ার্কার্স পার্টির বাজেট প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া

89

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ২০১৬-১৭ সালের বাজেট প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে বাজেটে প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের বিষয় বিস্তারিতভাবে বিধৃত হলেও সমতা ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ভাবনা ও কৌশলের বিশেষ কোন পথ নির্দেশনা নাই। দেশের দরিদ্র সামাজিকভাবে অনগ্রসর ও দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসরত মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার বেড়াজালের পরিধি ও এতদ্বিষয়ে বরাদ্দ কিছু বৃদ্ধি করা হলেও এসব ব্যবস্থার উপর নির্ভর করেই তাদের বেঁচে থাকতে হবে। এমতাবস্থায় অসমতা দূর করতে বাজেটে প্রগতিশীল কর নীতির কথা বলা হলেও অপ্রত্যক্ষ করই এখনও কররাজস্ব আদায়ের মূল হাতিয়ার। এবং এই অপ্রত্যক্ষ করের বোঝা সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হয়। করের পরিধি বৃদ্ধি করে বাজেটের লক্ষ্য অর্জনের জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বৃদ্ধির বিষয়ে কারও আপত্তি নেই, কিন্তু ঐ সম্পদ সংগ্রহ জনগণের উপর নিপীড়ন হয়ে দাড়ালে তা বুমেরাং হয়ে দেখা দেবে। বাজেটে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের জন্য প্রস্তাবিত কর ও শুল্ক ২রা জুন থেকে আদায় করার যে ঘোষণা অর্থমন্ত্রী দিয়েছেন তা ইতিমধ্যেই অস্বস্থি সৃষ্টি করেছে। প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি আয় বৈষম্য যেভাবে বাড়ছে তাতে সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে। প্রস্তাবিত বাজেটেই এই আয় বৈষম্য আরও বাড়াবে। অন্যদিকে বাজেটে দেশে বিরাজমান দুর্নীতির পরিস্থিতির ব্যাপারে একেবারেই নিশ্চুপ। অথচ এই দুর্নীতিই প্রবৃদ্ধির লাভের গুড় পিপড়ায় খেয়ে ফেলছে। ব্যাংকিং খাতে গত কয়েক বছরে যে দুর্নীতি, অব্যবস্থা ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় তার সামান্যতম উল্লেখ করেন নাই। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনাও তার মুদ্রিত বাজেট বক্তৃতায় নাই। অবশ্য বক্তৃতায় আলাদাভাবে এর উল্লেখ করেছেন এবং নিতান্তই দায়সারা ভাবে। অর্থমন্ত্রী অন্যান্য খাত সম্পর্কে অনেক কথা বলেছেন কিন্তু নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক খাতকে তিনি স্পর্শ করেন নাই।
ওয়ার্কার্স পার্টির প্রস্তাবে গত কয়েক বছরে কৃষির ধারাবাহিক উৎপাদন বৃদ্ধির কৃতিত্ব সরকার গ্রহণ করলেও কৃষকের ধানের মূল্য একেবারেই না পাওয়া, কৃষি উপকরনের মূল্য বৃদ্ধি সম্পর্কেও বাজেট নিশ্চুপ। কৃষি খাতের ভুর্তিকীর আওতায় কৃষকদের প্রণোদনার জায়গাটি নিরুৎসাহিতই থেকে যাচ্ছে। কৃষকেরা ফসলের লাভজনক বাজার মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ধান চাষে লাভ হারিয়ে বিমুখ হয়ে পড়লে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। পোশাক শিল্প শ্রমিকসহ শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টিও বাজেটে অনুপস্থিত। অন্যদিকে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এবার বৃদ্ধি পেলেও, শিক্ষার মানের ব্যাপারে দেশবাসী উদ্বিগ্ন।
শতভাগ পাস ও জিপিএ-র সংখ্যাধিক্য শিক্ষার মানের পরিচয় দেয় না। এ থেকে কিভাবে উত্তরণ করা যাবে সেই লক্ষ্যেই এই বরাদ্দের ব্যয় করা উচিত। বাজেট একইভাগে স্বাস্থ্যখাতে যে বাজেট বরাদ্দ হয়েছে তা দীর্ঘ মেয়াদী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের সহায়ক নয়। জনস্বাস্থ্য নীতিমালা স্বাস্থ্য সেবা খাতকে সাধারণ জনগণের কাছাকাছি রাখার জন্য আরো বেশি বরাদ্দ থাকা উচিত ছিল। সামাজিক সুরক্ষার আওতায় যতটুকু বাড়ানো হয়েছে তাতে রাজনৈতিক স্ট্যান্টই প্রধান কেননা রাষ্ট্র ও সরকারকে সাংবিধানিক দায় পালন করতে হলে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সহ শিশু, বয়স্ক, বিধবা, দুস্থ মানুষ শুধু নয় একটি স্থিতিশীল সামাজিক নিরাপত্তার জন্য কর্মসংস্থানের পরিধি কতখানি বাড়ছে সেটিই প্রধান বিবেচ্য হিসেবে নিতে হবে। অনুদান দিয়ে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে না প্রবৃদ্ধি ও সমতার রাস্তা মসৃন হবে না। ব্যাপক যুব জনশক্তি ও মানব সম্পদ উন্নয়নের বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের নীতি ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দিক নির্দেশনা পরিষ্কার নয়। যুব জনশক্তিকে পরিপূর্ণ কাজে লাগানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি