ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবদের বিচারবিভাগীয় তদন্ত করে বিচার দাবি বিএনপির

78

যুগবার্তা ডেস্কঃ ওয়ান ইলেভেন সংগঠিত করার মাধ্যমে দেশের প্রধান দুই নেত্রীকে মাইনাস করার ফর্মুলা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব্যকে সত্য বলে মনে করছে বিএনপির নেতারা। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিলেও বিএনপির সিনিয়র নেতারা আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে বলেছেন, ওয়ান ইলেভেন এখনও শেষ হয়ে যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখন আত্তোপলব্ধি হয়েছে। আমরা মনে করি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবদের বিচার করতে হবে। আর এটি করতে হলে বিএনপির সঙ্গে সরকারের আলাপ-আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা জরুরি বলেও মনে করেন তারা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জ্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময়ে যারা রাজনীতি নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছে। দেশের ক্ষতি করেছেন, রাজনীতি থেকে গণতন্ত্র বিনষ্ট করেছেন, মাইনাস টু ফর্মুলার পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। যারা রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে তথ্য প্রচার ও প্রকাশ করেছেন। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার নামে এবং তারেক রহমান, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে মিথ্যে তথ্য সংবাদপত্রে পরিবেশন করেছেন ও সরবরাহ করেছেন তাদেরও বিচার হতে হবে। তবে কোনটা মিথ্যে আর কোনটা সত্য সেটা আগে তদন্ত করে বের করতে হবে। কেবল তাই নয়, ওয়ান ইলেভেনের যারা কুশীলব, নায়ক, পরিকল্পনা করেছেন, সেনা সমর্থিত সরকার গঠনের ফর্মুলা করেছেন। ৩ মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর কাটিয়ে দেশে অসাংবিধানিক কাজ করেছেন। ব্যবসায়ীদের ও রাজনীতিবিদদের ধরে নিয়ে গেছেন, নির্যাতন করেছেন। অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। রাজনীতিবিদদের বাধ্য করেছেন শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার জন্য জোরপূর্বক সাক্ষ্য আদায় করেছেন- ওই সব ব্যক্তিদেরও বিচার হতে হবে। তবে এখন এই তদন্ত করা হলে সেটা কতখানি নিরপেক্ষ হবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে এখনই শুরু করা দরকার।
তিনি বলেন, এই সরকার যদি নাও করে আমরা কখনও দায়িত্ব পেলে অবশ্যই এই ব্যাপারে নিরপেক্ষ তদন্ত করার জন্য বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করব।
তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সরকারের কাছ থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার সাত বছর কেটে গেছে। এখন বিচারের কথা বলছেন। কিন্তু ওই সময়ে যারা ওইসব কাজ করেছেন তাদের কাউকেই তো কিছু করা হয়নি। কুশীলবরা এখন বিদেশে পুনর্বাসিত। আবার কেউ কেউ আছেন দেশে। তাদেরতো কিছু করেনি। কিছু করতে হলে তাদের বিচার করতে হবে। এরপর আসবে সাংবাদিকদের বিষয়টি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার (অব.) হান্নান শাহ বলেন, বর্তমান সরকার ওয়ান ইলেভেনের অনেক কুশীলবদের পদোন্নতি দিয়েছে। বিএনপি চায় সকল অপকর্মের বিচার হউক। শুধুমাত্র প্রথম আলো বা ডেইলি স্টার নয়, অন্য সংবাদপত্রের সম্পাদকরাও তো মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন। তাদেরও বিচার করা দরকার।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য কি আত্তোপলব্ধির প্রতিফলন না অন্য কোনো রাজনৈতিক কৌশল। জনশ্রুতি আছে যে, ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের সঙ্গে আপোস এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসছেন। তিনি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর খালেদা জিয়াসহ বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা, জেল, নির্যাতন ও বিএনপির স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও বাধা-বিপত্তি করছে। মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনরা খালেদা জিয়াকে মাইনাস করতে চেয়েছেন এক প্রক্রিয়ায় আর বর্তমান সরকার খালেদা জিয়াকে মাইনাস করতে চেয়েছেন অন্য প্রক্রিয়ায়। তবে টু-মাইনাস থিওরি এখনও চলমান কিনা তা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপলব্ধি করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আহমেদ আজম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কথা বলেছেন ওয়ান ইলেভেনের সময়ে মাইনাস টু ফর্মুলা করা হয়েছে। আসলে এটা ছিল মাইনাস থ্রি ফর্মুলা। তারা তারেক রহমানকেও রাজনীতি থেকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র করে। সেই ষড়যন্ত্র সফল করতে পারেনি। কিন্তু তাদেরকে তো অনেক কষ্ট দিয়েছে। কারাবন্দী করে রেখেছে। নির্যাতন করেছে। আবার মিথ্যে মামলাও দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সাত বছর পরে বুঝেছেন ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার হতে হবে। কিন্তু আমি বলবো- কেবল দুই সম্পাদকের কিংবা যারা সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করেছে তাদের বিচার করলে হবে না। কারণ যারা মিথ্যে তথ্য তৈরি, সরবরাহ করেছেন বিচার তাদের আগে করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও তাদের নাম বলেছেন তাদের বিচার কি তিনি করতে পারবেন? তাদের একজনতো সরকারের সুবিধা ও সরকারের নেক নজরে থাকার কারণেই তাকে বিদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার ও পড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছেন। আমাদের সময়.কম