এসপি বাবুল আক্তার কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন

যুগবার্তা ডেস্কঃ স্ত্রী মিতু খুন হওয়ার প্রায় দুই মাস পর অবশেষে পুলিশ সদর দফতরে নিজের কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাবুল আক্তারের পারিবারিক সূত্র। এছাড়া পুলিশ সদর দফতর সূত্রে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেলেও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করে কেউ কিছু বলছেন না। জানা গেছে, বাবুল আক্তার সকালে অফিসে যান এবং দুপুর ২টা ১০ মিনিটে বেরিয়ে যান।
বাবুল আক্তারের শ্যালিকা শায়লা মোশাররফও একই তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আজ (বুধবার) সকালে বাবুল আক্তার অফিসে গেছেন।
গত ৫ জুন সকালে বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার খুন হওয়ার পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে প্রচুর গুঞ্জনও ছড়িয়েছে।
এদিকে পুলিশ সদর দফতরের প্রধান ফটকের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিতদের একজন কনস্টেবল হাফিজ জানান, বেলা সোয়া দুইটার দিকে এসপি বাবুল আক্তার পায়ে হেঁটে পুলিশ সদর দফতর থেকে বের হয়ে যান।
পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (মিডিয়া) একেএম শহিদুর রহমান বলেন, ‘এসপি বাবুল আক্তার কাজে যোগদান করেছেন এটাও বলা যাবে না, আবার যোগদান করেন নাই এ মুহূর্তে তাও বলা যাবে না।’
স্ত্রী মিতু নিহত হওয়ার পর গত ২৪ জুন রাতে বাবুল আক্তারকে পুলিশ সদর দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ১৬ ঘণ্টা পর তাকে ২৫ জুন সন্ধ্যায় বনশ্রীতে শ্বশুরের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। তার ৩৮ দিন পর এই প্রথম তিনি পুলিশ সদর দফতরে গেলেন। মিতু হত্যার আগেই চট্টগ্রামে থেকে তাকে বদলি করে পুলিশ সদর দফতরে ন্যস্ত করা হয়েছিল।
গত ৫ জুন রবিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন মিতুকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে বাবুল আক্তার ও তার দুই সন্তান ঢাকায় মিতুর বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তবে কয়েকদিন পর ২৪ জুন মধ্যরাতে হঠাৎ করে পুলিশ সদর দফতরে তাকে ডেকে নেওয়া হলে এ মামলার গতি-প্রকৃতি পরিবর্তিত হতে শুরু করে। এমনকি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এসপি বাবুল আক্তার স্ত্রী হত্যায় জড়িত থাকায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে আইজিপি মো. শহীদুল হক গত ২১ জুলাই জানান, ‘তিনি এখনও চাকরিতে বহাল আছেন।’ এর আগে দুয়েকটি গণমাধ্যমে এসপি বাবুল আক্তার গত ২০ জুন পদত্যাগ পত্র দিয়েছেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়।
তবে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার প্রসঙ্গে এতদিন চুপ করে ছিলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় বাবুল আক্তারও সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কোনও কথা বলেননি। পুরো সময়টি তিনি শ্বশুরবাড়িতেই ছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে ২৪ জুন গভীর রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুল আক্তারকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেয়া হয়। ঘটনার পর পুলিশ যদিও বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলে আসছিল, কিন্তু তাকে কেন গভীর রাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সে বিষয়টি আজো পরিষ্কার হয়নি। ওই সময় বাবুল আক্তার আটক হয়েছে বলেও গুঞ্জন ছড়ায়।
এরপর প্রায় দুই মাস কেটে গেলেও বাবুল আক্তার কর্মস্থলে না ফেরায় বিষয়টি নিয়ে সবার মধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ ছিল। বাবুল আক্তার ছুটিতে আছেন না কি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন- কারো কাছ থেকে এ প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো জবাব না আসায় মানুষের আগ্রহ আরো বেড়ে যায়।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন শ্যালিকা শায়লা মোশাররফ নিনজা। তিনি বলেছিলেন, ‘আজ একজন রিকশাওয়ালাও মনে করেন এসপি বাবুল আক্তার খুনি। কিন্তু এর অন্তরালে কি ঘটে যাচ্ছে তা কেউ জানতে পাড়ছে না। মামলার তদন্তকালেই তাকে খুনি বানানো হচ্ছে। অথচ তিনি খুনি কি না তা এখনো প্রমাণ হয়নি। যদিও তা এখন অনেকের কাছে আর বড় বিষয় নয়, বড় বিষয় হচ্ছে বাবুল আক্তারকে চাকরিচ্যুত করা খুব জরুরি। যারা বাবুল আক্তারকে চান না, ভিন্ন স্বার্থ চরিতার্থ করতে চান, তারা সবাই উঠে পড়ে লেগেছে।’
তবে দীর্ঘ এ সময়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি বাবুল আক্তার। স্পষ্ট করে কিছু বলেননি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও।
গত ৫ জুন রবিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন মিতুকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে বাবুল আক্তার ও তার দুই সন্তান ঢাকায় মিতুর বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তবে কয়েকদিন পর ২৪ জুন মধ্যরাতে হঠাৎ করে পুলিশ সদর দফতরে তাকে ডেকে নেওয়া হলে এ মামলার গতি-প্রকৃতি পরিবর্তিত হতে শুরু করে। এমনকি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এসপি বাবুল আক্তার স্ত্রী হত্যায় জড়িত থাকায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে আইজিপি মো. শহীদুল হক গত ২১ জুলাই জানান, ‘তিনি এখনও চাকরিতে বহাল আছেন।’ এর আগে দুয়েকটি গণমাধ্যমে এসপি বাবুল আক্তার গত ২০ জুন পদত্যাগ পত্র দিয়েছেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়।
তবে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার প্রসঙ্গে এতদিন চুপ করে ছিলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় বাবুল আক্তারও সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কোনও কথা বলেননি। পুরো সময়টি তিনি শ্বশুরবাড়িতেই ছিলেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ পুলিশের ২৪তম ব্যাচের বিসিএস কর্মকর্তা বাবুল আক্তার ২০০৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। ২০১৫ সালে পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে ব্যাপক প্রশংসিত হন তৎকালীন এডিসি বাবুল আক্তার।