এবার ১৯৫ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে কমিটি গঠন

78

যুগবার্তা ডেস্কঃ পাকিস্তানের ১৯৫ যুদ্ধাপরাধী সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে ৫ সদস্যের কমিটির কমিটি গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমানকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়।

বুধবার বেলা ১১টায় তদন্ত সংস্থার রাজধানীর ধানমণ্ডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে আব্দুল হান্নান খান জানান, ১৯৫ পাকিস্তানীর বিচার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবে এই তদন্ত কমিটি। সরকারের নির্দেশনা পেলে ও ক্ষেত্র প্রস্তুত হলে দেশীয় যুদ্ধাপরাধীদের পাশাপাশি পাকিস্তানের ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু হবে।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পরবর্তী তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বাছাইকৃত ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনাকর্মকর্তার বিচারের জন্য সংসদে স্বতন্ত্র একটি আইন তৈরি করেছিল ১৯৭৩ সালে। কিন্তু ১৯৭৪ সালে সবাইকে ক্ষমা করে দিয়ে ৯২ হাজার পাকিস্তানি সেনাকে ভারত থেকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পাকিস্তান তখন এদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

তবে পাকিস্তানিদের সহায়তাকারী এবং খুন, ধর্ষণ, লুটতরাজ, ঘরবাড়িতে আগুন দেয়াসহ কয়েকটি অপরাধে দেশীয় যারা জড়িত ছিল তাদের বিচার চলমান ছিল। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান সরকার তা বন্ধ করে দেয়। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় গাইবান্ধা ও হবিগঞ্জের আট রাজকারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে তদন্ত সংস্থা। এদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।

প্রধান ‍যুদ্ধাপরাধী এই আটজন হলেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা এবং গাইবান্ধা-১ আসনে জামায়াত ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য আবু সালেহ মোহাম্মদ আবদুল আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়ামারা আজিজ, সুন্দরগঞ্জের মোহাম্মদ রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু, মোহাম্মদ আবদুল মতিন, আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ নাজমুল হুদা, মোহাম্মদ আবদুর রহিম মিয়া। এদের প্রত্যেকের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। এরা প্রত্যেকেই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অপর দুই জন হলো- হবিগঞ্জের লাখার থানার মো. লিয়াকত আলী ও আমিনুল ইমলাম ওরফে রজব আলী।এদের মধ্যে মো. লিয়াকত আলী লাখাই থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। অপরজন আমিনুল ইসলাম স্বঘোষিত আলবদর নেতা ছিলেন।নিউজওয়ার্ল্ডবিডি.কম