“এবার রমজান মাসে ইফতারে মিলবে গোদুগ্ধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য

ফজলুল বারীঃ “এবার রমজান মাসে ইফতারে মিলবে গোদুগ্ধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য। এমনটাই করতে চলেছে ভারতের হিন্দু মৌলবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মুসলিম শাখা। গোরক্ষার উপকারিতা এবং গোমাংস ভক্ষণের ফলে রোগ থেকে দূরে থাকার জন্য সচেতনতা বাড়াতে এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরএসএসের শাখা সংগঠন মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ। এই প্রথমবার রমজান মাসে প্রতি শুক্রবার রোজা (উপোস) ভাঙার পর এক গ্লাস দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য দিয়ে ইফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন মঞ্চের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মহিরাজ ধ্বজ সিং। ২০০২ সালে সরসংঘচালক কে এস সুদর্শনের নির্দেশে এই মঞ্চের সূচনা হয়। তখন থেকেই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে কাজ শুরু করে আরএসএসের এই শাখা সংগঠন। এই প্রথম যোগীর রাজ্য উত্তরপ্রদেশে এমন ধরনের ইফতারের আয়োজন করবে মঞ্চ। ধ্বজ সিং এমনটাই জানিয়েছেন সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে। গোদুগ্ধের উপকারিতা এবং গোমাংস ভক্ষণের অপকারিতা বোঝাতে গিয়ে ধ্বজ সিং বলেন, ‘এমনকি মুসলিম বিদ্বজ্জনরাও গোদুগ্ধ এবং ঘিয়ের উপকারিতা মেন নিয়েছেন। গোদুগ্ধ যেমন স্বাস্থ্যের পক্ষে উত্তম তেমনই আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপযোগী ঘি।’ তিনি এও জানান, রমজানের সময় মুসলিম মঞ্চের সদস্যরা গোরক্ষার জন্যই বিশেষভাবে প্রার্থনা করবেন। ‘ব্রহ্মাণ্ডের জীবন্ত যা কিছু আছে সবকিছুই আল্লাহ-এর দান। সেগুলির প্রতি মানবিকতা দেখালে আল্লাহর রেহমত থেকে আমরা বঞ্চিত হব না।’ জানিয়েছেন মুসলিম মঞ্চের এক প্রবীণ সদস্য।
ধ্বজ সিং জানিয়েছেন, এই রমজান মাসে ভ্রাতৃত্ব এবং ভালবাসার বার্তা দিতে বদ্ধপরিকর মঞ্চের সদস্যরা। তাঁর বক্তব্য, ‘আসুন এক সমৃদ্ধ ভারত গড়ি, অযোধ্যা ইস্যুতেও আমাদের আরও সহমর্মিতা দেখাতে হবে।’ মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের পদাঙ্ক অনুসরণ করা লখনউয়ের পসমন্দা মুসলিম সমাজের সভাপতি ওয়াসিম রাইনি জানিয়েছেন, ‘গোদুগ্ধ থেকে তৈরি পেড়া-সহ অন্যান্য মিষ্টি ইফতারে দেওয়া হবে। আমাদের কোনও আপত্তি নেই। এই ধরনের পদক্ষেপে হিন্দু-মুসলিম ভ্রাতৃত্ব আরও দৃঢ় হবে বলে বিশ্বাস আমাদের।”