একাত্তরে অবদান রাখায় ভারত ও রাশিয়ার সেনাকর্মকর্তাদের সংবর্ধনা

যুগবার্তা ডেস্কঃ একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখা ভারত ও রাশিয়ার মিত্র বাহিনীর সদস্যদের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’-এ বিদেশি অতিথিদের এ সংবর্ধনা দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। মিত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এ দেশের নতুন প্রজন্ম আপনাদের দেখে উদ্বুদ্ধ হবে।’ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ভারত ও রাশিয়ার মিত্র বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেইসঙ্গে তারা যেখানে যুদ্ধ করেছিলেন সেখানকার স্মৃতি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, একসঙ্গে বিজয় উৎসব পালন করতেই এ আমন্ত্রণ। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশ দুটির রাষ্ট্রদূত ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গণভবনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ২৯জন এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী চট্টগ্রাম বন্দরের ‘মাইন সুইপিংয়ে’ অংশ নেওয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের নৌ বাহিনীল পাঁচজন সদস্যকে সংবর্ধনা দেন। ভারত ও রাশিয়ার বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও রাশিয়ার অবদান ছিল। আপনাদের সাথে নিয়ে আমরা আমাদের বিজয় দিবস পালন করছি, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।”

ভারতের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জি এস সিহতার নেতৃত্বে বাংলাদেশে আসা ভারতীয় প্রতিনিধি দল এবং ভিক্তর কঝরিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার যে পাঁচজন নৌ সেনা গণভবনের ব্যাঙ্কোয়েট হলে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন, তাদের সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। জি এস সিহতা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন পদে কর্মরত ছিলেন।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরবর্তী ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সিহতা বলেন, “বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে গিয়ে দেখেছিলাম, সেখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাংকার।” তাদের সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে।”

বাংলাদেশের বিজয়ের ৪৫তম বার্ষিকীতে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাশিয়ার নৌ সেনা কর্তা ভিক্তর কঝরিন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের মাইন অপসারণের পুরো সময়টাই বাংলাদেশে ছিলেন এই রুশ সেনা। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা নিয়ে রুশ ভাষায় একটি বই লিখেছেন তিনি। বইটি শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন ভিক্তর কঝরিন। এই বই বাংলা ভাষায়ও প্রকাশ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। রাশিয়ার সাবেক এই সেনা সদস্য বলেন, “আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্ব ১৯৭২ সাল থেকে।”

অনুষ্ঠানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল ভি এস টঙ্ক একাত্তরে সিলেট এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠন এবং এর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ায় বিশেষ ভূমিকা পালনকারী ভারতের সাবেক এয়ার কমান্ড্যান্ট চন্দ্র মোহন সিংলা বলেন, “আমার মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে।”

১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আসামের দিমাপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী যাত্রা শুরু করে। দুটি ডিসি-৩ ডাকোটা এবং একটি অ্যালুয়েট-৩ হেলিকপ্টার নিয়ে যুদ্ধে নামেন বিমান বাহিনীর সদস্যরা। আগরতলা সীমান্ত থেকে সিলেট পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অভিযানের কথাও স্মরণ করেন চন্দ্র মোহন সিংলা। ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক ভাইস অ্যাডমিরাল রমন প্রেম সুথান এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার ভানট মদন মোহন প্রতিক্রিয়া জানান।